১ জানুয়ারি উদ্বোধন হচ্ছে বাণিজ্য মেলার
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-১২-৩০ ১১:২৭:৫৭
এ বছর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নকশায় তৈরি করা হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ভিভিআইপি গেট। প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিরা এই গেট দিয়েই মেলার মাঠে প্রবেশ করবেন। মেলার ভেতরের বিভিন্ন সাজসজ্জা প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু যে গেট দিয়ে জনসাধারণ মেলায় প্রবেশ করবে, জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে নির্মিতব্য সেই মূল গেটসহ গণভবন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার গেট তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি।
বুধবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
এটি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসর। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে,আগের দিন ৩১ ডিসেম্বর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে মেলার আয়োজন বিষয়ে সাংবাদিকদের জানাবেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ওইদিন তিনি মেলার সার্বিক প্রস্তুতিও পরিদর্শন করবেন।
বাণিজ্য মেলার মাঠ সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনও চলছে মূল গেট তৈরিসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অধিকাংশ স্টলে চলছে রঙয়ের কাজ। আগের বছরগুলোতে মাঠের ধুলা দূর করতে আয়োজকদের বেগ পেতে হয়েছে। বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে এবছর ধুলার রাজত্ব নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে অনেকটাই নির্ভার রয়েছে আয়োজক সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্যাভিলিয়নের মূল অকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোনও কোনও প্যাভিলিয়নে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ। জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (ভিসি) ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘এবছর প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁসহ মোট স্টলের সংখ্যা ৪৪১টি। গতবছর সাধারণ স্টল ছিল ২৫০টি। এবার সাধারণ স্টলের সংখ্যা ৫০টি। এপর্যন্ত ২৩৩টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদেশি ২৬টি প্যাভিলিয়নের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ছিল ৫৫টি। সেগুলো এখনও যাচাই-বাছাই চলছে। বরাদ্দ দেওয়া হলে সেগুলোর নির্মাণ কাজ চলবে মেলা চলাকালীন সময়ের মধ্যেই।’
মেলায় এবছর চারটি ব্যাংক বুথ ও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ইপিবি। তারাও তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছে।
ইপিবি জানিয়েছে, এবারের মেলায় শুক্র ও শনিবার কোনও সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সবার জন্য খোলা থাকবে। টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে পূর্ণ বয়স্ক ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৮টি প্যাভিলিয়ন ও ৬টি মিনি প্যাভেলিয়ন রিজার্ভ রাখা হয়েছে। মেলায় আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, মেলার নির্ধারিত মাঠের ভেতরের সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত রয়েছেন।
আয়োজক সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা চলবে পুরো জানুয়ারি মাস। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ চীন, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান,দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র এবারের মেলায় অংশ নেবে। মেলায় খাবারের দাম যেন বেশি রাখা না হয়, সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ থাকবে। একইসঙ্গে মেলার মাঠে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ইপিবি সূত্র জানায়, এবছর বাণিজ্য মেলায় ২টি মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও ব্যাংকের পর্যাপ্ত এটিএম বুথ থাকবে। একটি মেডিক্যাল সেন্টার থাকবে। পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ থাকবে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচার, রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক ও প্লাস্টিকপণ্যের স্টলও।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপশি থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। বাণিজ্য সচিব ড. জাফরউদ্দিন বলেন, ‘মেলা শুরু হচ্ছে ১ জানুয়ারি। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। সংশ্লিষ্টরা সেভাবেই দিনরাত কাজ করছেন।’ এবছরের বাণিজ্য মেলা দর্শকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে বলেও জানান তিনি।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














