যৌথ সমীক্ষা চায় জাতীয় নদী রক্ষা  কমিশন

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-৩১ ১২:৫৬:৩৫


বিভিন্ন দেশের সাথে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা নির্ধারণ করে এগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করাসহ  গতিপথ পরিবর্তন বিষয়ে যৌথ সমীক্ষা চায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কমিশন মনে করে, এই সমীক্ষা করা সম্ভব হলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। ভারতের সঙ্গে চীনকেও একাজে যুক্ত করা গেলে এমন এক তথ্য ভাণ্ডার তৈরি হবে, যা তিন দেশেরই কাজে আসবে।

এ বিষয়ে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিজেরা এটি করতো পারবো না। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ করেছি। তারা রাজি হলে কাজটি করা সম্ভব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তঃসীমান্ত ৫৭টি নদ-নদীর সার্বিক তথ্য, বর্তমান ভৌত অবস্থা, নদীর পানির ধরন ও প্রবাহ, নিষ্কাশন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে যথাযথ তথ্যসমৃদ্ধ রিপোর্ট তৈরি করতে  যৌথ নদী কমিশনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সমীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

কমিশন মনে করে, আন্তঃসীমান্ত নদীতে কোনও বাঁধ বা প্রকল্প গ্রহণ বা পানির মূল প্রবাহের গতি পরিবর্তন, উত্তোলন ও অপসারণ করলে বাংলাদেশে অবস্থিত ওইসব নদীর অবশিষ্ট অংশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে অথবা পড়বে, তা জানা জরুরি। সে অনুযায়ীই যৌথ নদী কমিশন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং (আইআরএস) বা জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এই সমীক্ষা কেন প্রয়োজন, এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশন বলছে, আন্তঃসীমান্ত নদ-নদীর সুশাসন, সংরক্ষণ, বণ্টন ব্যবস্থাপনা ও পাহাড়ি ঢল, বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য যৌথ তথ্য ভাণ্ডার বা তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই শুধু তথ্য না থাকার কারণে নানাভাবে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মাত্র দুই বছর আগে পাহাড়ি ঢলে দেশের হাওর অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শস্য ভাণ্ডার খ্যাত এই এলাকায় ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এসব সংকট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে তথ্য ভাণ্ডার থাকলে। এতে আগেভাগে মানুষকে সচেতন করে তোলা যাবে।

কমিশন জানায়, আন্তঃসীমান্ত নদ-নদীর সংখ্যা মোট ৫৭টি। এরমধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেই আছে ৫৪টি। এই নদীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মতভেদ দূর করতে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি), বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো), নদী গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন যৌথভাবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইড্রো মরফোলজিক্যাল এবং জিও ফিজিক্যাল সমীক্ষা বা গবেষণা করে নদীর সংখ্যা, বর্তমান অবস্থান ও অবস্থা চূড়ান্ত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে পানিসম্পদ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শুধু ভারত নয় চীন, নেপাল ও মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদ-নদী সম্পর্কে যুগোপযোগী তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা জেআরসি বা পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা হাইড্রো–মরফোলজিক্যাল বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও আইনি কাঠামো আবশ্যক বলে মনে করে কমিশন।

কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, কেবল ভারত নয়  চীন, নেপাল ও মিয়ানমারে নদীগুলোর উৎপত্তি। এসব নদী আমাদের দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কিন্তু উজানে নদীর প্রবাহে বাঁধ দেওয়ার কারণে আমাদের এখানে নদীগুলো পানি শূন্য হয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আন্তঃসীমান্ত নদীতে বাঁধ দেওয়া বেআইনি।কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যা করা হচ্ছে। কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করায় আমরা ভাটির দেশ হিসেবে পানি সংকটে রয়েছি। যৌথ সমীক্ষা হলে উজানের দেশগুলো বুঝতে পারতো আমাদের কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে।