ধর্ষক পরিমলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২০১৫-১১-২৫ ১৬:১৭:১৩ আপডেট: ২০১৫-১১-২৫ ১৯:৫৪:২৭

Porimolবহুল আলোচিত ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক পরিমল জয়ধরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে।

বুধবার ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১ নভেম্বর রোববার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। পরে ১০ নভেম্বর আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ একদিন এবং আসামিপক্ষ দু’দিন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি ফোরকান মিয়া এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মাহফুজ মিয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষে পিপি অ্যাডভোকেট ফোরকান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপক্ষ ২৮ জন সাক্ষী উপস্থাপনের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে।

গত ২১ অক্টোবর আসামি পরিমল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ট্রাইব্যুনালে। এরপর ট্রাইব্যুনাল ১ নভেম্বর মামলাটিতে যুক্তিতর্কের শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে ২০১১ সালের ২৮ মে ধর্ষণ করেন শিক্ষক পরিমল জয়ধর। ওই সময় ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইলে ভিডিও করা হয়। পরে ওই ভিডিও বাজারে ছাড়ার ভয় দেখিয়ে ওই বছরের ১৭ জুন ফের ধর্ষণ করেন পরিমল।

২০১১ সালের ৭ জুলাই আসামি পরিমল জয়ধর বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেন। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই ধর্ষিতা ওই ছাত্রী ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম শামীমা পারভিনের কাছে স্বেচ্ছায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। পরে এ মামলা থেকে ভিকারুননিসা স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম ও বসুন্ধরা শাখা প্রধান লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে আসামি পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৭ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

এর আগে আসামি পরিমলের বিরদ্ধে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মাহবুবে খোদা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১১ সালের ২৮ মে ভিকারুন্নিসা স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে হাত বেঁধে, মুখে ওড়না গুঁজে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাশবিক নির্যাতন করে। উপর্যুপরি পাশবিক নির্যাতনে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় পরিমল তার মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। ঘটনার শেষে ছাত্রীটির হাতের বাঁধন খুলে কাউকে এ বিষয়ে কিছু বললে ইন্টারনেটে নির্যাতনের ছবি ছেড়ে দেয়া হবে বলে ভয় দেখায়। পরবর্তীতে ১৭ জুনে পরিমলের কাছে পড়তে গেলে আবারো সে ওই ছাত্রীটিকে নির্যাতন করে। সেদিন ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে পরিমল তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। পরে ২১ জুন বিষয়টি বসুন্ধরা ভিকারুন্নিসা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে খুলে বলা হলে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। ২২ জুন পরিমল স্কুলে আসলে শাখা প্রধানকে বিষয়টি আবারো বলা হয়। ২৩ জুন স্কুলে অবিভাবকসহ মিটিং করা হয়। ওই মিটিংয়ে ভিকারুন্নিসার অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। শেষে ওই বছরের ২৮ জুন পরিমলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শাখা প্রধানের কাছে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দেয়া হয়। কিন্তু পুরো বিষয়টিতেই অধ্যক্ষ কোনো ভূমিকা না রাখায় ৫ জুলাই ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরদিন ৬ জুলাই পরিমল জয়ধরকে কেরাণীগঞ্জের পরিমলের স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১২ সালের ৭ মার্চ চার্জ গঠনের পর স্বাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ এ। রাষ্ট্রপক্ষ স্বাক্ষী  উপস্থাপন করে ২৮জন। আসামিপক্ষে এ মামলায় কোনো সাফাই স্বাক্ষী ছিল না।

পরিমল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার লাটেংগা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পরিমল জয়ধর কারাগারে রয়েছেন।