‘আস্থার অভাবে ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি কম’
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-০২ ১৫:২৩:৪৪
ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করেছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, ‘আস্থা অর্জন করতে না পারায় ভোট দিতে আসেনি জনগণ। ভোটের হার কম হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার অভাব ও উদাসীনতা আমরা লক্ষ্য করেছি। কারণ, দেশের দুটি বৃহত্তম দলের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে। তারা সচেষ্ট হলে ভোটারদের উপস্থিতির হার আরও বাড়াতে পারত।’
রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবারের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, ‘আমরা ৫০৭ জন প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষক দিয়ে ৭২৯ কেন্দ্র ভ্রাম্যমাণ ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষকদের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একথা বলা যায় যে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সার্বিক ভোটগ্রহণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ।’
দুই সিটির নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটি বলছে, সিটি নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। আর সেই ইস্যুতে দলটি আজ হরতাল পালন করছে।
ভোটে কারচুপি প্রসঙ্গে আবেদ আলী বলেন, ‘যেখানে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল, সেখানে কারচুপি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে আমরা এমন ঘটনা হয়েছে বলে মনে করি না।’
এ সময় নির্বাচন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রশংসা করেন সংস্থা প্রধান। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। প্রচারে সব দলকে সমান সুযোগ করে দিয়েছে। সব প্রার্থীর অভিযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ছিল।’
ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন আবেদ আলী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল আমাদের নিয়ে ইসিতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছে। তাদের আমরা বলতে চাই, আমাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনারা আমাদের সম্পর্কে ভালো করে তথ্য নিয়ে তারপর সমালোচনা করেন।’
এই প্রথমবার দুই সিটির নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া হয়েছে। ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে অনেককে; স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছে।
আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। পরে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সহায়তায় ভোট দেন তিনি।
এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের প্রধান বলেন, ‘এটা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। আমরা ইসিকে বলব, এটা নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে যেন সমস্যা না হয়। তবে ইভিএমে ভোট গ্রহণ খুব ভালো পদ্ধতি।’
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














