বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-০২ ১৮:১৫:০০
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় বিদ্যমান বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ এ বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়াতে পারে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বাজারে মূল্য নির্ধারণের প্রভাবক হিসেবে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।
এসব কারণে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় কোনো উত্থান-পতন নয়, বরং মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে।
জ্বালানি তেলের বাজারের ওপর সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এতে ৫০ জন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকের মতামত নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের গড় দাম বর্তমান পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। চীনের সংক্রমিত করোনাভাইরাস আতঙ্কে জ্বালানি তেলের বাজারে বর্তমানে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। তবে রয়টার্স জরিপটি পরিচালনা করেছে করোনাভাইরান মহামারী আকারে ছড়ানোর আগে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার জেরে পণ্যটির বাজার চাঙ্গা ছিল।
রয়টার্সের সর্বশেষ মাসভিত্তিক জরিপে জানানো হয়, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৬৩ ডলার ৪৮ সেন্ট। এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পণ্যটির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলার ৭৬ সেন্ট। আগের মাসের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলার শূন্য ৭ সেন্ট।
এদিকে রয়টার্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়াতে পারে ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৫৮ ডলার ২২ সেন্ট। ডিসেম্বরের পূর্বাভাসে ব্যারেলপ্রতি দাম ধরা হয়েছিল ৫৭ ডলার ৭০ সেন্ট।
ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের জেরে চলতি বছরের প্রথম দিকেই জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড বেড়ে যায়। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক কাইলিন ব্রিচ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুর্ঘটনাক্রমে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা এ বছর জ্বালানি তেলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী চাপে রাখতে পারে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ওয়ান্ডা করপোরেশনের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া জানান, চলতি বছর জ্বালানি তেলের বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে অনেকটাই সফল হয়ে উঠতে পারে ওপেক। নন-ওপেক দেশগুলো পণ্যটির উত্তোলন বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর বিপরীতে জ্বালানি তেলের উত্তোলন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি কমিয়ে বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হতে পারে জোটটি।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














