দুর্বল অর্থনীতি চাঙ্গায় মোদি সরকারের বাজেট যথেষ্ট নয়
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০২-০৩ ১৪:১৬:৩৪
দশকের সবচেয়ে বড় শ্লথগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের নতুন বাজেটে তার অল্প সমাধানই মিলেছে। শনিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৪২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বাজেট পেশ করেছেন। সেখানে নতুন সড়ক, বিমানবন্দর নির্মাণসহ ব্যক্তিগত আয়করে বড় কর্তন ঘোষণা করলেও তা বড় ধরনের প্রণোদনা সৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে এমন মন্তব্য করা হয়।
১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা অধিক মানুষের কাছে অর্থনীতির সুফল পৌঁছিয়ে দিতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। দেশটির ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাঙ্গায় বাজেটে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি।
বাজেট উপস্থাপনার শুরুতে সীতারমণ বলেন, আমরা যেন স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করতে পারি, সেজন্য কাজ করে যাচ্ছে আমাদের সরকার। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ জয়তি ঘোষ অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি সরকারের প্রস্তাবনাগুলোকে ‘অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো’ ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, সবদিকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ দিনে দুবেলা আহার করছে, শিশুরা দুধ পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ২০১৮ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, গত বছরে তা ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এছাড়া ভোগ্যপণ্যের বিক্রিতেও শ্লথগতি দেখা গেছে।
২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বেকারত্ব হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানায় সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি।
এতে বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের বাসিন্দা ও তরুণরা।
নাজুক অর্থনীতির জেরে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে মোদির। দুটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। যার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, যার মুম্বাই শহর দেশটির অর্থনৈতিক রাজধানী।
গত শুক্রবার মোদি সরকার নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দিলেও আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ততটা আশাবাদী নয়। চীনে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে, ইইউ থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধেরও স্পষ্ট কোনো সুরাহা হয়নি, সেখানে নির্ভুল পূর্বাভাস দেয়া খুব কঠিন কাজ। তার উপরে ক্ষমতার পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মোদি। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি ও এনপিআরের বিরুদ্ধে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে ভারতের বিভিন্ন স্তরের জনগণ। ভারতের নাজুক অর্থনীতি নিয়েও বিক্ষোভগুলো থেকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আওয়াজ উঠছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকের কর্মচারীরা গত শুক্র ও শনিবার ধর্মঘট করেছে।
সরকার আগ্রাসী কর্মসূচি গ্রহণ না করলে আগামী কয়েক মাসে সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। জয়তি ঘোষ বলেন, প্রত্যেকেই বলছে সরকারকে আরো আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। বেকারত্ব হার ৪ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে এবং প্রত্যেকটি খাতেই প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতির এ অবস্থায় আগে রোগীকে বাঁচাতে হবে, তারপর আসে কীভাবে হাঁটবে সে বিষয়টি।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














