সবুজ অরণ্যের সিংড়া ফরেস্ট ভ্রমণে
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২০-০২-০৪ ১১:৪০:০৯
কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত হলো এবারের শীতে বন ভ্রমণে যাব।ভ্রমণের গন্তব্য স্থির হল সবুজ অরণ্যের রাজ্য সিংড়া ফরেস্ট। এই বনটি উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।দিনটি ছিল শনিবার।রোমাঞ্চকর এক ভ্রমণের আকাংখা নিয়ে বের হলাম।শীত মৌসুম হওয়ার কারণে প্রচন্ড কুয়াশায় আচ্ছন চারিদিক।
হিমেল হাওয়ার সাথেই বের হলাম।দারুন এক অনুভুতি!পূর্বেই ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাস যোগে সকাল ১০ টায় আমরা পৌঁছালাম সিংড়া ফরেস্টের মুল গেটে। বনের সম্মুখভাগে প্রবেশ করতেই দেখা যায় আকাশ ছুয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল-বিশাল সব শালগাছ।গাড়ি পার্ক করে হেঁটে সামনে এগোতে থাকলাম।বনের ভেতরে প্রবেশ করার শূরুতেই চোখে পড়লো সুন্দর ছোট একটি নদী।দোদুল্যমান সাঁকোটি দিয়ে অনায়াসে নদী পার হলাম। জেলেরা নদীতে মাছ ধরছিল।অপূর্ব সেই দৃশ্য।সাঁকো পার হতেই হাতছানি দিয়ে ডাকছে গা ছমছম করা গহীন সিংড়া্ ফরেস্ট।
সকলে মিলে ভেতরে প্রবেশ করলাম একসাথে।ভেতরে প্রবেশ করতেই লক্ষ্য করলাম বিশাল আকৃতির শালগাছের ফাঁকে-ফাঁকে ছোট ছোট বিভিন্ন প্রকৃতির গাছপালা।ঘন জঙ্গলের ভিতর সূর্যের আলো্ প্রবেশ করতে পারেনা।তাই চরিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।বনের ভিতর বিভিন্ন জায়গায় উইপোকারা মাটি তুলে ঢিবির মত করে রেখেছে। দেখলেই বোঝা তারাও কতটা পরিশ্রমী।সেই ঢিবিগুলোতে পরম আনন্দে বাসা বেঁধেছে তারা।ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটার সময় বিভিন্ন লতা-পাতা গায়ে জড়িয়ে যায়।
বনের ভিতর হঠাৎ কয়েকজন উপজাতি মানষ দেখতে পেলাম।তারা আমাদের জানালো এই বনে এক সময় অজগর সাপ,বাঘ,হরিণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির বণ্যপ্রাণী বাস করতো। দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে বন উজার হওয়ার ফলে এসব প্রাণী ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। কিছুদুর এগোতে হঠাৎ খেয়াল করলাম অজগর সাপের মত কি যেন পড়ে রয়েছে।অন্ধকারে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম।ভালোভাবে খেয়াল করতেই দেখলাম। অদ্ভুত প্রজাতির এক গাছ পড়ে রয়েছে।দেখতে অবিকল অজগর সাঁপের মত। কিছূটা খাঁঝ-খাঁজ আকৃতির। এর মোটা আকৃতির কান্ডগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।এক গাছ ছেড়ে অন্য গাছে গিয়ে জড়িয়ে রয়েছে।
বনে হাঁটতে-হাঁটতে হঠাৎ পাখিদের চিৎকার চেচামেচী শোনাগেল।দেখি কয়েকটা পেঁচা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রয়েছে।যেন এক্ষুনি গিলে খাবে।বনের একঅংশে ঘুরতে-ঘুরতেই দেখি মধ্যদুপুরে পৌঁছে গেছি। দুরের মসজিদ থেকে আজান শোনা যাচ্ছে।এবার আমরা জোহর নামাজ শেষ করলাম।খেয়াল করলাম সকলের পেট চোঁ-চোঁ করছে।আমরা মধ্যাহ্ণভোজনের সিদ্ধান্ত নিলাম।(চলবে)
সানবিডি/নুরুজ্জামান






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














