কোম্পানি আইনের খসড়ায় মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৪ ১৫:২১:৫৩ || আপডেট: ২০২০-০২-০৪ ১৫:২২:১০

কোম্পানি নিবন্ধনের সময় সিল নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে ‘কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২০’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিবন্ধনের জন্য কোম্পানির সিলের প্রয়োজনীয়তা নেই। মূলত কোম্পানির নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনায় সিল ব্যবহার করা হয়। কোম্পানির কমন সিল, সাধারণ সিল, অফিসিয়াল সিল বিলোপ করার জন্য কোম্পানি আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের উদ্দেশ্যে খসড়া উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে এটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আইনটিকে অধিকতর ব্যবসাবান্ধব ও সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় এ আইনের খসড়াও প্রণয়ন করা হয়। এরপর নেয়া হয় মতামত। তবে সব ধারা নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় খসড়াটি চূড়ান্ত হয়নি। খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে একটি সভা হয়। সেখানে কমিটি গঠন করে বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট একটি ধারা দ্রুত সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সিল ছাড়াই কোম্পানির নিবন্ধন করা যাবে। কিন্তু নিজস্ব কাজের জন্য সিল ব্যবহার করতে হবে। কারণ অনলাইনে যখন কাজ করে, তখন তো সিল ব্যবহার করা যাচ্ছে। নিবন্ধনের সময় সিল থাকতে হবে, এ বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে স্কোর ৬-৭ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। এতে আমাদের র্যাংকিং ওপরের দিকে চলে যাবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভা আইনের খসড়াটিকে ভেটিংয়ে নেয়ার শর্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এটা সংশোধন করলে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে আমাদের অবস্থান এগিয়ে নেয়া যাবে।’

হাতি রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভারত। এজন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘প্রটোকল অন ট্রান্স-বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট কনজারভেশন বিটুইন পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’র খসড়ায় গতকাল ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমার থেকে সিজনাল অনেক হাতি আমাদের এখানে চলে আসে। যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা হয়, আবার যেতেও পারে।’

২০১০-১৫ সালের মধ্যে বিশেষ করে শেরপুর, মেঘালয় আন্তঃদেশীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি হাতি মারা গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ সময়ে দুটি আহত হয়। অন্যদিকে হাতির আক্রমণে ৩৬ জন মানুষ মারা গেছে, ২০ জন আহত হয়েছে, ১ হাজার ১১৬টি পরিবার ও ২৩২টি বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ এছাড়া ভারত থেকে প্রায়ই পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী হাতি নদী পার হয়ে বা সীমান্তের কাঁটাতার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। হাতি সংরক্ষণে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এর আলোকে ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর থার্ড ডায়ালগ অন ট্রান্স-বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট কনজারভেশন সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সভায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর পর্যায়ের প্রটোকল অন ট্রান্স-বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট কনজারভেশন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হয়। খসড়া এ প্রটোকলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হয়েছে। প্রটোকলটি চূড়ান্ত হলে আন্তঃদেশীয় হাতি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে। উভয় দেশ নিজ নিজ বন্যপ্রাণী বিষয়ক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারবে। হাতি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কিত তথ্য উভয় দেশের মধ্যে আদান-প্রদান করা যাবে। একই সঙ্গে হাতি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বন্যপ্রাণী আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রটোকলের আওতায় হাতির বাসস্থান টেকসই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃদেশীয় হাতির জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে সম্পৃক্ত করে এটা ম্যানেজ করা যাবে। উভয় দেশ যৌথভাবে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণকাজ পরিচালনা করবে।

এছাড়া গতকালের বৈঠকে ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস, বাংলাদেশ আইন ২০২০-এর খসড়া এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় করা জাতীয় তেল ও রাসায়নিক নিঃসরণ কনটিনজেন্সি পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস