মুদ্রা কারসাজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৫ ১৯:১৯:৩৪ || আপডেট: ২০২০-০২-০৫ ১৯:১৯:৩৪

ডলারের বিপরীতে যেসব দেশ তাদের মুদ্রা অবমূল্যায়ন করে, সেসব দেশের পণ্যে ভর্তুকি-বিরোধী শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ শাস্তিমূলক শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে, যারা বড় আকারের ভর্তুকি দেয় এবং রফতানি ব্যয় কমানোর জন্য ডলারের বিপরীতে নিজেদের মুদ্রা অবমূল্যায়ন করে। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত সম্প্রসারমান করোনাভাইরাস নিয়ে ওয়াশিংটন মিথ্যা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বেইজিং।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মুদ্রা কারসাজির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে দৈনিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেনের বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারকে নতুন দ্বন্দ্বে ফেলে দেবে। অতীতেও চীন ও জাপানের মতো অর্থনীতিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ রকম পদক্ষেপে পাল্টাপাল্টি মুদ্রা লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন শিল্প।

বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো কীভাবে তাদের মুদ্রা কারসাজি করে, তা তদারকিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের ওপর নির্ভর করবে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অন্য দেশের মুদ্রা অবমূল্যায়ন তদারকিতে নেয়া খসড়া নীতিমালাটি গত বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন বলছে, কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নিজেদের পণ্যে অন্যায্য ভর্তুকি ও মুদ্রা অবমূল্যায়নের সুবিধা নিচ্ছে। শুধু ওই দেশগুলোর কিছু সুনির্দিষ্ট পণ্য আমদানিতে কাউন্টারভেইলিং শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন নীতিমালায় আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সব পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে না, কারণ এমনতর সব আমদানি মার্কিন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস জানান, নতুন এ নীতিমালা আমেরিকান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সমতাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মার্ক সবেল বলেন, নতুন এ নীতিমালা গত মে মাসে প্রকাশিত খসড়া নীতিমালার বিপরীতে বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে এবং তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ঠেকতে পারে।

বর্তমানে লন্ডনভিত্তিক ইকোনমি পলিসি থিংক ট্যাংক ওএমএফআইএফের উপদেষ্টা সবেল আরো বলেন, মুদ্রা অবমূল্যায়ন পরিমাপের সুনির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি বা মুদ্রাসংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো দায় বা দক্ষতা নেই। এ রকম একপেশে নীতিতে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্র আরো কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো দেশ তাদের দেশীয় শিল্পকে চাঙ্গা করতে মুদ্রা বিনিময় হার কমাচ্ছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে ওই দেশের মুদ্রানীতি ও ক্রেডিট পলিসি নিয়ে মাথা ঘামাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত এ নীতিমালায় শুধু চীন নয়, অন্যান্য দেশের পণ্যও উচ্চ শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে। যে দেশগুলো এ শঙ্কার মধ্যে রয়েছে জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ড। ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্ধবার্ষিক মুদ্রা প্রতিবেদনে ‘মনিটরিং লিস্টে’ রয়েছে। মুদ্রা বাজারের হস্তক্ষেপ, উচ্চ বৈশ্বিক চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ও উচ্চ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ট্রেক করা হয় ওই মুদ্রা প্রতিবেদনে।

এক দশক আগে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও মুদ্রা কারসাজির অভিযোগ এনেছিল কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদার। তখন ব্রাজিলের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল, তারা ডলারের অবমূল্যায়ন করে মার্কিন শিল্প খাত চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছেন, তারা দেশীয় শিল্প চাঙ্গায় মুদ্রা কারসাজি করছে। বিশ্বব্যাপী মুদ্রা কারসাজির বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেয়া ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সোমবার নতুন এ নীতিমালা ঘোষণা করল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস