আজ নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়বে যুবারা

স্পোর্টস ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১১:০৬:৩২ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১১:০৬:৩২

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি পচেফস্ট্রুমে  শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। জিতলে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে টাইগার যুবারা। এরপর ৯ই ফেব্রুয়ারি শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ভারতের। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১৬তে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরে সেমিফাইনাল খেলা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিচারে এ ম্যাচে ফেভারিট বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জেতে আকবর আলীর দল।

এবারের যুব বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে হারায় টাইগার যুবারা।

দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেয় মাত্র ৮৯ রানে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সেদিন ব্যাটিংটা একদম ভালো হয়নি। ২৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৬ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা পরিত্যক্ত হয়। তবে রানরেটে এগিয়ে থাকায় গ্রুপসেরা হয়ে সুপার লীগ কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখেন হৃদয়রা। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ আটের বাধাটা সহজেই টপকে যায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ‘ছোট তামিম’ খ্যাত তানজিদ হাসানের ৮০ ও শাহাদাত হোসেনের ৭৪* রানের ইনিংসে ২৬১ রান সংগ্রহ করে যুবারা। রাকিবুল হাসানের ঘূর্ণিতে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ১৫৭তে। ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল। চলতি আসরে ৪ ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট। পেসার তানজিম সাকিব ও শরীফুল ইসলামও দারুণ বোলিং করছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে উভয়েই সাফল্য দেখেছেন।

অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, শ্রীলঙ্কা ও জাপান। তিন ম্যাচে এক জয়, এক হার দেখে কিউরা। আরেকটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে কিউইরা। সেখানে তারা ২ উইকেটে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। জয়টা বেশ নাটকীয়। ২৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫৩ রানে ৮ উইকেটে হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। নবম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করেন বোলার ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক-জো ফিল্ড। ৪ উইকেট নেয়টা ক্লার্ক ব্যাট হাতে খেলেন ৪৬ রানের ইনিংস। ফিল্ড করেন ৩৮* রান। বল হাতে তার শিকার ২ উইকেট।

১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে রানার্সআপ হয় নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০০৮ ও ২০১২তে সেমিফাইনালে উঠেও ফাইনাল খেলতে পারেনি তারা। আক্ষেপটা এবার ঘুচাতে চায় কিউইরা। ওই টুর্নামেন্টগুলো থেকে কয়েকজন ভালো মানের খেলোয়াড় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১৯৯৮’র আসরে জেমস ফ্রাঙ্কলিন, পিটার ইনগ্রাম, হামিশ মার্শাল, জেমস মার্শাল, ব্রুস মার্টিন, পিটার ম্যাকগ্লাসান, কাইল মিলস ও লু ভিনসেন্ট। ২০০৮-এ কেন উইলিয়ামসন, কোরি অ্যান্ডারসন, ট্রেন্ট বোল্ট, হামিশ রাদারফোর্ড, টিম সাউদি এবং জর্জ ওয়াকার। আর ২০১২তে ইশ সোধি। ২০১৬’র টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ। যারা এখন জাতীয় দলে খেলছেন। তারও আগে ২০০৬তে মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই দলে মুশফিকের সঙ্গে ছিলেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, রকিবুল হাসান, মেহরাব হোসেন জুনিয়রদের মতো ক্রিকেটাররা। তানজিদ-রাকিবুলদের মাঝে যেন সাকিব-তামিমদেরই ছায়া। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।

সানবিডি/এনজে