ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১৭৪ কোটি টাকা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১১:১৯:৫১ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১১:১৯:৫১

রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে । চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে স্থলবন্দরটিতে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৪ কোটি ৪ লাখ টাকা কম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের সুবিধা না পাওয়া তথা সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে না পারা ও উচ্চশুল্কযুক্ত পণ্য কম আমদানি হওয়ায় এ ঘাটতি হয়েছে। তবে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বছরের পরের অর্ধে এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠার বিষয়ে আশাবাদী।

ভোমরা স্থলবন্দরে কাস্টমস রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৭২ কোটি ৪ লাখ, আগস্টে ৯২ কোটি ৮৮, সেপ্টেম্বরে ৬৭ কোটি ৭১, অক্টোবরে ৯১ কোটি ৯৫, নভেম্বরে ১২০ কোটি ৪৩ ও ডিসেম্বরে ১১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে গত ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৮ কোটি ৯ লাখ, আগস্টে ৫৪ কোটি ৫৮, সেপ্টেম্বরে ৬৮ কোটি ৭, অক্টোবরে ৫৭ কোটি ৪১, নভেম্বরে ৮৫ কোটি ৯৮ ও ডিসেম্বরে ৭২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে ১৭৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।

সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৪৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি। গত ছয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হওয়ার পরও সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন নেই জানিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানির সুযোগ না দিলে রাজস্ব বাড়বে না। উচ্চকরযুক্ত পণ্য আমদানি করতে পারেন না এখানকার ব্যবসায়ীরা। যে কারণে ব্যবসায়ীরা এ স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কমেছে। তাই এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আশা করছি, বছরের পরের ছয় মাসে এ ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা সদর উপজেলাধীন ভোমরা সীমান্তে এই স্থলবন্দরটি  অবস্থিত। স্থলপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ভোমরাকে স্থলবন্দরের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে। রাজধানী থেকে ভোমরা স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার ও কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। সড়কপথে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে এ স্থলবন্দরের ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে এ বন্দরের ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকাংশে বাড়বে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। সূত্র-বণিক বার্তা

সানবিডি/এনজে