৫ জেলেকে অপহরণ করে অস্বীকার করছে বিএসএফ

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১১:৪৬:৩১ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১১:৪৬:৩১

সম্প্রতি সীমান্তে বাংলাদেশিদের উপরে বিভিন্ন সময়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করছে বিএসএফ।কয়েকদিন আগে রাজশাহীর খরচাকা সীমান্তের এক কিলোমিটার ভেতর থেকে পাঁচ জেলেকে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিএসএফের দাবি করছে, তারা তুলে নিয়ে যায়নি, ওই পাঁচজন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। খরচাকা নয়, গোদাগাড়ীর প্রেমতলী বিওপি এলাকার ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তাদের গ্রেফতারের দাবি করে বিএসএফ। বিএসএফের দাবি, ওই পাঁচজন গরু পাচারকারী।

বিজিবিকে পাঠানো বিএসএফের ‘প্রোটেস্ট নোট’ এ এই উদ্ভট দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলীকে তলব করে সীমান্তে হত্যা ও অপহরণের তীব্র প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই এই ‘প্রোটেস্ট নোট’ পাঠায় বিএসএফ।

তবে বিএসএফের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বিজিবি। বিজিবি জানাচ্ছে, নিজেদের সীমানা পেরিয়ে এক কিলোমিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে পদ্মায় মাছ শিকাররত ওই পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বিএসএফ। জেলেদের সরকারি নিবন্ধনও রয়েছে। তারা হলেন- রাজন হোসেন (২৫), নুরুজ্জামান দোয়েল (২৭), কাবিল হোসেন (২৫), শাহীন আলী (৩৫) ও শফিকুল ইসলাম (৩০)।

পবা উপজেলার গহমাবোনা গ্রামে তাদের বাড়ি। গত ৩১ জানুয়ারি পদ্মার গহমাবোনা এলাকায় মাছ শিকার করছিলেন তারা। ওই সময় জলযান নিয়ে অনুপ্রবেশকারী বিএসএফ সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় ভারতের মুর্শিদাবাদ কারাগারে বন্দী রয়েছেন তারা।

বিজিবি জানাচ্ছে, পাঁচ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবি। বিজিবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় নির্মলচরের সীমান্ত পিলার ৫৩/২/এস-এর কাছে পতাকা বৈঠকে বসতে সম্মত হয় বিএসএফ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি বিএসএফ। সীমান্তে বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে গিয়ে ফিরে আসতে হয় বিজিবিকে।

এরপর বিজিবির তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় আবারও পতাকা বৈঠকে বসতে রাজি হয় বিএসএফ। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ প্রতিনিধি হাজির হলেও ফিরিয়ে দেয়নি জেলেদের। তাদের অনুপ্রবেশকারী দাবি করে মামলা দায়েরের

পর আদালতে তোলে।

পরে বিএসএফের এমন কাণ্ডের কড়া প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তোলা হয় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এরপর কেবল দুঃখ প্রকাশ করে দায় সাড়ে বিএসএফ। এই ঘটনা কেবল বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সীমাবন্ধ নেই, পৌঁছে গেছে প্রতিবেশী দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়েও।

রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসএফের প্রোটেস্ট নোটের প্রেক্ষিতে আমরা নতুন করে সীমানা মেপে দেখেছি। তাতেও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের সীমানার এক কিলোমিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে পদ্মায় মাছ শিকাররত পাঁচ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। সূত্র-জাগো নিউজ

সানবিডি/এনজে