“প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইন” কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১৩:২৫:০৬ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১৯:৪৫:৪৩

আইআইএবি এর মত পেশাজীবি প্রতিষ্ঠান দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান বিনিময়ে এগিয়ে আসতে হবে। পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টরে ইন্টারনাল অডিটর পেশাকে আরো শক্তিশালীকরণ এবং আইআইইকে স্বাধীন পেশায় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান কম্পট্রলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ প্রধান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী)  ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এফ কে এম এ বাকি অডিটরিয়াম, অডিট ভবন, কাকরাইল এ “প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইন” শীর্ষক একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইন চুড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি আইনের খসড়ার প্রতি নীতিগত সমর্থন দিয়ে পরবর্তীতে এটি যাতে দ্রুততার সাথে আইনের পরিণত হয়, সে ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিবেশি দেশের মধ্যে এই আইনের মাধ্যমে অনুকরণীয় হতে পারি। প্রস্তাবিত এ আইনে আরও কিছু ধারা পরিবর্তন ও যুগোপযোগী করা যেতে পারে। এছাড়া রেগুলেটরি বডিগুলোতে ইন্টারনাল অডিট প্রফেশনকে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনটি, কোম্পানি আইনের আলোকে হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কিছু ধারা পরিমার্জন করা আবশ্যক।

কোম্পানি আইনে যে সংশোধনী আসছে, সেখানে অথবা পরবরর্তী সংশোধনীতে ইন্টারনাল অডিট ইন্সটিটিউট এবং এই প্রফেশনের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাণিজ্য সচিবকে তিনি অনুরোধ জানান।

ইনস্টিটিউটের বর্তমান যে সিলেবাস রয়েছে, সেটি আরো পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে আরো যুগোপযোগী করার আহŸান জানান। অডিট ভবন সব সময় এ প্রফেশনের উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান জন্য বিনা খরচে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বস দেন তিনি।

কর্মশালায় আইআইএ বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, সিআইএ, সিআইএসএ, সিআইএসএম, সিজিইআইটি, সিএসএক্স-এফ, সিএফই স্বাগত বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সবাইকে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আইআইএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর ২৮ ধারায় নিবন্ধিত হয়ে লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, আইআইএ বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল এম নুরুল আলম এফসিএস, সিসিইপি-আই। তিনি “প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইন” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপ¯’াপন করার পাশাপাশি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তিনি বলেন, ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অভ্যন্তরিণ নিরীক্ষা পেশার বিকাশে অবদান রাখছে। “প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইন” চুড়ান্ত ভাবে আইন হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হলে আইআইএবি এর সদস্যগণ জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক মোঃ হেলাল উদ্দীন নিজামী, কমিশনার বিএসইসি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নত দেশের শুভ পথযাত্রায় উন্নত দেশের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আইআইএবি এর মত এ পেশাজীবি প্রতিষ্ঠান দেশে কর্পোরেট জগতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিএসইসির সহযাত্রী হতে পারে।

তিনি বলেন, ইন্টারনাল অডিটের দরকার আছে। অন্যান্য প্রফেশনের পাশাপাশি ইন্টারনাল অডিট প্রফেশনকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিএসইসি’র পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। এফআরসিকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক বাধা এসেছে, এ ইন্সটিটিউটকে প্রতিষ্ঠিত করতেও বাধা আসবে। তবে এ বিষয়ে বিএসইসি সার্বিক সহযোগিতা করবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কর্পোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইন্টারনাল অডিট প্রফেশনের সমৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত আইনটি পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে আমার কাছে পাঠান। সে অনুযায়ী প্রস্তাবিত ইন্সটিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ আইনটি চুড়ান্তের ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা করা হবে।

কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্পোরেট নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ আইআইএবি এর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই এবং কর্পোরেট সংবাদ।

সানবিডি/ঢাকা/এসআই