যুব দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা চাঁদপুরের মাহমুদুল

স্পোর্টস ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৮ ১৫:১১:০৫ || আপডেট: ২০২০-০২-০৮ ১৫:১১:০৫

ক্রিকেটে শুরুর দিকে  পা রাখার সময় প্রতিভার অধিকারি ছিলেন না মাহমুদুল। পুরোটাই পরিশ্রমের ফসল। চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি থেকে শুরু করে বিকেএসপি- পুরোটা সময় পরিশ্রম করে গেছেন তিনি। মাহমুদুলের খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঝুঁকিহীন ব্যাটিং। ইনিংস সাজানোর রণকৌশল বেশ পরিষ্কার। প্রথম ৩০ রান করার আগে কোনোরকম ঝুঁকিপূর্ণ শট, যেমন সুইপ, ফ্লিক, গ্লাইড খেলা থেকে বিরত থাকা। ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়ার পরেই আক্রমণাত্মক শট খেলে থাকেন তিনি। সেমিফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে এমন রণকৌশলেই ব্যাট করেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

২০১৩ সালে মাহমুদুলকে তার বাবা আবুল বারেক চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করান। চাঁদপুর জেলা কোচ শামীম ফারুকির তত্ত্বাবধানে ক্রিকেটে হাতেখড়ি তার। দুই বছরের মতো সেখানে ক্রিকেট দীক্ষা নিয়ে চলে যান বিকেএসপিতে। তার ক্রিকেট জীবনের প্রথম কোচ ফারুকি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ওকে (মাহমুদুল) আমি খুব কম সময় পেয়েছি। ওর বাবা এসে বললো, ‘ওকে বিকেএসপিতে ভর্তি করাবো, একটু তৈরি করে দিয়েন।’ এরপর যতদিন সময় পেয়েছি, ওকে নিয়ে কাজ করেছি। ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ করেই সে অনেকটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এরপর বাকি কাজগুলো করেছে বিকেএসপির স্যাররা। তাদের কৃতিত্বও কম নয়।’

মাহমুদুলও প্রথম গুরুর কৃতিত্বকে বড় করে দেখেন, ‘২০১৩ সালে ক্রিকেট বলে শুরুটাই তো হয়েছে তার (ফারুকি) হাত ধরে। তার কাছে ব্যাট-বল ধরা শেখা আমার। উনিই আমাকে প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখিয়েছেন। তার কাছে দুই বছর ব্যাটিংয়ে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তীতে বিকেএসপিতে কাজে লাগাতে পেরেছি।’

মাহমুদুল সহজাত প্রতিভাবান না হলেও পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন উঁচুতে। ছোটবেলায় বড় ভাইদের ‘অবহেলা’ মাহমুদুলের মধ্যে জেদ ধরিয়ে দেয়। বড় ব্যাটসম্যান হয়ে নিজেকে প্রমাণ করার স্বপ্নের শুরুটাও সেখান থেকে। সেই স্বপ্নের পথেই আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটসম্যান। আর এই এগিয়ে চলার পেছনে তার পরিশ্রমকেই সামনে আনলেন ফারুকি, ‘জয় (মাহমুদুল) হচ্ছে পরিশ্রমী ক্রিকেটার। পরিশ্রম দিয়েই এতদূর এসেছে। ছোট থেকেই অনেক পরিশ্রম করেছে। ক্রিকেট নিয়ে ওর স্বপ্ন অনেক বড়। তার একাগ্রতা, মানসিক শক্তি সাহস দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, ও অনেক দূর যাবে।’

মাহমুদুলের সবচেয়ে বড় গুণ কঠিন পরিস্থিতিতেও সহজভাবে ম্যাচের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। চাপহীন খেলার মানসিকতার জন্য তার আলাদা সুনামও আছে। ঠাণ্ডা মাথায় নিউজিল্যান্ডকে একাই কাঁপিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ। যদিও সেমিফাইনালে ১০০ রানের ইনিংস খেলার আগে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলোতে ভুগতে হয়েছিল ফর্মহীনতায়। সেমিফাইনালের আগে পাঁচ ইনিংস মিলিয়ে মাহমুদুলের রান ছিল মাত্র ৭৬। এরপরও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ নাভেদ নওয়াদের পুরো বিশ্বাস ছিল মাহমুদুলের ওপর, ‘জয় দারুণ ক্রিকেটার। ওর ঘুরে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই ও জ্বলে উঠবে।’

প্রথম গুরুও মনে করেন মাহমুদুলের মতো ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা করা যায়, ‘ও কখনোই চাপ নেয় না, সাবলীল ব্যাটিং করে। ওর ব্যাটিং দেখে কখনো মনে হবে না চাপে আছে। এই বয়সে ওর মানসিক শক্তি ও পরিপক্কতা যে কাউকে মুগ্ধ করবে।’সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন

সানবিডি/এনজে