কমতে শুরু করেছে ছোলার দাম

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ০৯:১৬:৫৩ || আপডেট: ২০২০-০২-০৯ ০৯:১৯:০৪

দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কিছুদিন আগে হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল ছোলার দাম। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে ফের কমতে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। গত এক সপ্তাহে খাতুনগঞ্জে পণ্যটির দাম প্রতি মণে (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, গত রোজার পর থেকে মোটামুটি স্থির ছিল ডালজাতীয় পণ্য ছোলার দাম। তবে দুই-তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর পণ্যটির দাম আবার কমতে শুরু করে। খাতুনগঞ্জে গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ভালো মানের প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। জানুয়ারির শেষ দিকে একই মানের ছোলা মণপ্রতি ২ হাজার ৪৫০ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছিল।

একই সময়ে খাতুনগঞ্জ বাজারে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা মাঝারি মানের প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। বর্তমানে একই মানের ছোলা ২ হাজার ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ মানের ছোলার দাম কমেছে মণে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা।

স্থানীয় ছোলা ব্যবসায়ী রবিউল হাকিম বলেন, বাজারে এখন অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার সরবরাহ বেশি। গত রোজার সময় মিয়ানমার থেকে কিছু ছোলা আমদানি করা হলেও বর্তমানে বাজারে পণ্যটির সরবরাহ নেই বললেই চলে। জুন-জুলাইয়ের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় ছোলার দাম ছিল নিম্নমুখী। জানুয়ারিতে পণ্যটির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। তবে সম্প্রতি আমদানি বৃদ্ধির জেরে বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে। তাই এর দাম কমতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। তবে প্রতি বছর চাহিদা বাড়ছে। ছোলার অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে। রোজায় বাড়তি চাহিদা জেরে মাঝে মাঝে মিয়ানমার থেকেও অল্প পরিমাণ আমদানি করা হয়। এছাড়া দেশেও পণ্যটি অল্প পরিমাণ উৎপাদন হয়।

চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সঞ্জয় দেব খোকন বলেন, এক সময় আমদানি করা ছোলার বেশির ভাগই রোজায় ব্যবহার করা হতো। এর পর শীতকালে কিছুটা চাহিদা বাড়ত। তবে এখন সারা বছরই কম-বেশি পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। ডালজাতীয় পণ্যটির বাজার নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের বুকিং দর ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক মাস ধরে বুকিং দর কম থাকায় দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কম ছিল। তবে গত মাসে খাতুনগঞ্জে পণ্যটির দাম কিছুটা বাড়লেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগের ধারায় ফিরে এসেছে।

সানবিডি/এনজে