প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সেবা বিষয়ে জানাতেই বেশি আগ্রহী কর্মীরা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ০৯:৫১:৪০ || আপডেট: ২০২০-০২-০৯ ০৯:৫১:৪০

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এ ঢুকতেই রঙিন ব্যানার দর্শনার্থীদের সাদর সম্ভাষণ জানাচ্ছে। মেলায় প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান ৪টি হলে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। হাস্যোজ্জ্বল কর্মীরা সেবা সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন। তবে মেলা ঘুরে দেখা গেল, বিকিকিনির চেয়ে মানুষকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সেবা বিষয়ে জানাতেই বেশি আগ্রহী কর্মীরা। দর্শনার্থী ও স্টলের কর্মীরা ভিজিটিং কার্ড বিনিময় করেছেন।

মেলায় ৩ নম্বর হলে চলছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদর্শনী। এখানেই আছে ডিজিটাল এডুকেশন, উইমেন, আইটিইএস ও বিপিও, মোবাইল ইনোভেশন ও মিডিয়া জোন। সহজেই চোখে পড়বে দারাজ, এসএসএল, জেনেক্স ও সেবা এক্সওয়াইজেডের বড় প্যাভিলিয়ন। মেলার কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরে দেখা গেল, আগ্রহী তরুণেরা বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানছেন ও প্রসপেক্টাস সংগ্রহ করছেন। ৪ নম্বর হল ঘুরে দেখা গেল, সেখানে চলছে দেশের সফটওয়্যার খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। সেখানে ডেটাসফট সিস্টেমস, ব্রেন স্টেশন ২৩, স্যুবরা টেকনোলজিস, টিকনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অগ্রসরমাণ সফটওয়্যার খাতের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। ২ নম্বর হল ঘুরে মনে হবে, এ যেন ব্যাংকিং মেলা। এটি আসলে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ জোন। অর্থনৈতিক খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির (ফিনটেক) প্রদর্শনী এখানে চলছে। এ ছাড়া আছে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) নিয়ে কথা বলার সুযোগ।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া চার দিনের মেলায় সেমিনার হলজুড়ে প্রতিদিন চলছে নানা সেমিনার ও আলোচনা। সেদিন বিকেলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতের বড় প্রদর্শনী ১৬তম বেসিস সফটএক্সপো চলবে কাল ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ডিজিটাল সেবাসংক্রান্ত টেন্ডার প্রণয়ন সেবার আদ্যোপান্ত শীর্ষক সেমিনার। কর্মশালায় বক্তারা নাগরিক সেবা প্রদানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সরকারের ই-টেন্ডারিং সেবার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সেই সঙ্গে এই সেবা ব্যবহার করার বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি সম্পর্কে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি: কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক আরেক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ-উল মুনির, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার অংশ নেন। আলোচনায় মূল বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন। আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ আক্তার হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মহসিন রেজা। রাতে সিএক্সও লিডারশিপ মিট নামে আরেকটি আয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গতকাল বিপুল মানুষের সমাগম হয়। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে মেলায় এসেছিলেন। মেলায় ঘুরতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, তরুণদের জন্য অনেক কিছু দেখার ও জানার আছে মেলায়।

মেলার আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের জীবনটাই হয়ে গেছে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড। সবারই এবার নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সব জোনেই ভিড় চোখে পড়ার মতো। আগামীকালও ছুটির দিন, আমি সবাইকে এক্সপোতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

মেলা প্রতিদিন রাত আটটা পর্যন্ত চলবে। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত, তবে বেসিস সফটএক্সপো অ্যাপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে নিবন্ধন করতে হবে।