ঋণ খেলাপিরা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা থেকে বঞ্চিত হবেন

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ১৪:৫৮:৫৩ || আপডেট: ২০২০-০২-০৯ ১৪:৫৮:৫৩

রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সম্মাননা পাওয়া ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না স্বেচ্ছায় খেলাপি ঋণগ্রহিতারা।

এছাড়া কোনো প্রকার পেশাজীবী, ব্যবসায়িক, সামাজিক, সংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কোনো কমিটির কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে বা আসীন থাকতে পারবে না।

এ লক্ষ্যে সরকার ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন-২০২০’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই আইনটি বিদ্যমান ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩’ রহিত করে জারি করা হবে। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই আইনের একটি খসড়াও প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি খুলতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত পূরণ হলেও কেবল তারা এখানে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। তবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি জনগণের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করতে পারবে না।

একটি ফাইন্যান্স কোম্পানি কী ধরনের ব্যবসা করতে পারবে সে সম্পর্কে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবসা, প্রচেষ্টা মূলধন (ভেঞ্চার ক্যাপিটাল), সরবরাহ, সিকিউরিটাইজেশনসহ কাঠামোগত অর্থায়ন, ফাইন্যান্স কোম্পানির নিজস্ব পোর্টফলিও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার আওতায় সরকার বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক ইস্যুকৃত শেয়ার, স্টক, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার স্টক এর দায় গ্রহণ, অধিগ্রহণ, বিনিয়োগ বা পুনঃবিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য ব্যবসা।’

উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবসার বিষয়ে আইনে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থায়ন ব্যবসা বুঝাবে।’

এই আইনের খসড়া ফ্যাইন্যান্স কোম্পানি বেশ কয়েকটি ব্যবসা করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো-স্বর্ণের মাধ্যমে লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ সুবিধা, এককভাবে অথবা যৌথভাবে অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো আমদানি রপ্তানি ব্যবসা এবং এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে এমন অর্থায়ন ব্যবসা ব্যতীত ফাইন্যান্স কোম্পানি অন্য কোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। তবে এই আইন প্রবর্তনের সময় ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত বিদ্যমান কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে এই উপধারা প্রযোজ্য হবে না।

আমানত গ্রহণে বিধি-নিষেধ : আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি এমন কোনো আমানত গ্রহণ করবে না যা চেক, ড্রাফট, ডেবিট কার্ড অথবা আমানতকারির আদেশের মাধ্যমে চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য হয়। ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ ও মেয়াদে আমানত গ্রহণ করতে পারবে। ’

বিনিয়োগ সীমা : প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজার বিনিয়োগসীমা সমষ্টিগতভাবে তার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, তার আবেদন সাপেক্ষে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির উপরিউক্ত ধরনের বিনিয়োগ তার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের অনধিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস