ববিতে পরিবহন সংকট, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-১২ ১৫:৫৬:০৬ || আপডেট: ২০২০-০২-১২ ১৫:৫৬:০৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি শিক্ষার্থীদের পরিবহনকারী বাসের সংখ্যা। হলগুলোতেও বাড়েনি আবাসন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আবাসন সংকট থাকায় প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীকে

ক্যাম্পাস থেকে দূরে বরিশাল শহরে বাসা বা মেসে থাকতে হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে থাকা এসব শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসতে প্রধানত নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের ওপর। কিন্তু তীব্র পরিবহন সংকটের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে  ভোগান্তিতে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বাসগুলোর ধারণক্ষমতা সব মিলিয়ে প্রায় পনেরশ। আর বাকি শিক্ষার্থীর জন্য নেই কোনও পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী যাতায়াত করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পরিবহন পুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আছে ছয়টি ডাবল ডেকার (দোতলা) বাস, চারটি বড় বাস ও তিনটি মিনি বাস। এদের মধ্যে দুটি বড় বাস ও তিনটি মিনিবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব। বাকিগুলো বিআরটিসি থেকে ভাড়ায় আনা৷ কিন্তু এসব বাসের রুট ও ট্রিপের সংখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরিবহন পুলে থাকা গাড়ি গুলোর ফিটনেস নিয়েও আছে নানা অভিযোগ। এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে স্বল্প দূরত্বে যেসব শিক্ষার্থী বসবাস করে তাদেরকে প্রধানত গণপরিবহন এবং অটোসার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের মাঝে নদীর ওপর সেতু থাকায় সেতুর অতিরিক্ত টোল ভাড়ার কারণে অটোগুলোও শহর থেকে আসতে চায়না বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছু অটো আসলেও ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে মার্কেটিং  বিভাগের  শিক্ষার্থী জাকির হোসেন জানান, পরিবহন ফি বাবদ টাকা নিলেও আশানুরুপ পরিবহন সুবিধা পাইনা। প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা খুবই সামান্য। যেগুলো আছে সেগুলোও ফিটনেসবিহীন। পরিবহন পুলে আরও  নতুন কিছু বাস না দেওয়া হলে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো মাত্র দুই রুটে চলে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রুট বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীরা অনেক সুবিধা পাবে। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবে।

এদিকে, সয়েল এন্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভদিপ অধিকারী জানান, নগরীর নথুল্লাবাথ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যে বাসগুলো দেওয়া হয় সেগুলোর বেশিরভাগই ফিটনেস বিহীন। এমনকি শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেশিরভাগেরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ঝুলে ক্যাম্পাসে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি রূপাতলী থেকে কোনো শিক্ষার্থীই আর গাড়ীতে উঠতে পারে না অতিরিক্ত ভীড়ের কারণে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অভিযোগের ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত নয়।পরিবহন পুলের সভাপতি মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মেহেদী হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা দূরীকরণে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে শিক্ষার্থী পরিবহনে রুট ও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভাড়ায় যে গাড়িগুলো চলে সেগুলোর ফিটনেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ আছে। সে ব্যাপারে বিআরটিসির কাছে বারবার চিঠি দিয়ে ভালো মানের গাড়ি সরবরাহের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে পরিবহন পুলে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে নতুন গাড়ি সংযোজনের জন্য ইউজিসির বরাদ্দ দরকার হয়। নতুন বছরে এ খাতের কোনো বরাদ্দ এখনো আসে নি। তবে ইউজিসিতে আমাদের চাহিদা পত্র পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন দ্রুত পরিবহন সংকট সমাধানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান,”আমাদের পরিবহন সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমি যোগদানের পর নভেম্বর মাসে নতুন একটি ডাবল ডেকার(দোতলা) বাস পরিবহন পুলে যুক্ত করেছি।সামনে সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে ইউজিসিতে নতুন বাসের জন্য আবেদন করা হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। নতুন বাস পরিবহনের জন্য যোগ হলে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে আসবে।