বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার

এক চতুর্থাংশ কয়লা উত্তোলন কমেছে ইউরোপে

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-১৫ ০৯:০৯:৩৪ || আপডেট: ২০২০-০২-১৫ ০৯:১৩:৫৩

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো নিজস্ব খনি থেকে উত্তোলন করে এবং সে সব কয়লা দিয়ে মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানিপণ্যটির ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচনার মুখে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে ঝুঁকেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর জের ধরে গত বছর ইউরোপের দেশগুলোয় কয়লার সম্মিলিত উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে এসেছে। একদিকে উত্তোলন কমে আসা, অন্যদিকে ব্যবহার কমায় এ সময় ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত আগের তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে এসব কেন্দ্রের দায় অনেকটাই কমে এসেছে। বিপরীতে এসব কেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর রয়টার্স ও রিনিউ ইকোনমি।

ইইউর পক্ষ থেকে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে জোটভুক্ত দেশগুলোয় হার্ড কোলের সম্মিলিত উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৪ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জোটভুক্ত দেশগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের কার্বন নিঃসরণের হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে ১২ শতাংশ। কয়লার পরিবর্তে এসব কেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়েছে।

বিদায়ী ২০১৯ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো নতুন একটি রেকর্ড করেছে। এ সময় এসব দেশে কয়লার পরিবর্তে বায়ু ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি ছিল। ইউরোপের ইতিহাসে এর আগে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। রেকর্ড গড়েছে ব্রিটেনও। গত বছরের মে মাসে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই সপ্তাহের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদু্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখেছিল দেশটি। এর মধ্য দিয়ে কয়লামুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে নতুন মাইলফলক গড়ে ব্রিটেন।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ইউরোপীয় থিংক ট্যাংক জার্মানির আগোরা এনার্জিওয়েন্ডি ও ব্রিটেনের স্যান্ডবাগ এক যৌথ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৯ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণের হার আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বা ১২ কোটি টন কমেছে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে কয়লা উত্তোলন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানিপণ্যটির ব্যবহারে লাগাম টানার ফলে।

ইউরোইলেকট্রিক ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টিয়ান রুবি বলেন, আপনি যদি পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর দিকে তাকান, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৭০ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার উদ্যোগ দেখবেন। এমনকি চলতি বছরের শেষে জার্মানি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, চেচনিয়া, স্লোভেনিয়ার মতো দেশগুলোয় সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অবদান ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে। ফলে ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি এসব দেশ জ্বালানিপণ্যটির উত্তোলন ও আমদানিও কমিয়ে আনবে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে জার্মানি, স্পেন, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি—এ পাঁচটি দেশ। ইইউভুক্ত দেশগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার সম্মিলিত ব্যবহার কমে আসার ৮০ শতাংশই এ পাঁচ দেশে।

শুধু ইউরোপেই নয়, পুরো বিশ্বেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কমে এসেছে। আগোরা এনার্জিওয়েন্ডি ও স্যান্ডবাগ যৌথ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদায়ী বছরে বিশ্বজুড়ে কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

কার্বন নিঃসরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ইউরোপজুড়ে সচেতনতা বেড়েছে। এ কারণে ইইউভুক্ত দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমে লাগাম টানার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ পরিকল্পনা এসব দেশে জ্বালানিপণ্যটির উত্তোলন কমাতে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে ক্রিস্টিয়ান রুবি বলেন, ইইউর এ পরিকল্পনা অনেকটাই উচ্চাভিলাষী। তবে জলবায়ু সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কার্যকর পরিকল্পনার বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কমানোয় এরই মধ্যে কার্বন নিঃসরণে এ খাতের ভূমিকা আগের তুলনায় কমে এসেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার। আগামীতে লক্ষ্য পূরণে এ অর্জন ধরে রাখতে হবে।

সানবিডি/এনজে