একটি আইপিও বাজারে আসতে সাড়ে চারশ আইন পালন করতে হয়

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০২-১৫ ২০:৩৪:৫৪


প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারে আসতে আইনের চারশত ৬৯টি ধারা-উপ ধারা পরিপালন করতে হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান। এর পরও যদি আইপিও’র বিষয়ে কারো কোন সুনিদৃষ্ট প্রস্তাব থাকে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আমরা সব সময় সমস্যার কথা বলি, আর সমালোচনা করি। কিন্তু সমস্যা থকে উত্তোরণের কোন পরামর্শ দেই না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি অনুকূলে ছিলো না।বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে বুঝা যায় বাজারে অর্থের যোগান কম ছিলো।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুজিবাজার উন্ননের উদ্যোগ নেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রির দিকনির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক এক যুগান্তকারী নীতি সহায়তার সকুলার দিয়েছেন। যা ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারিদের মধ্যে আগ্রহ ও সাহস যোগাচ্ছে। এ সহায়তা কোন দানা বা ভর্তুকি নয়। এটি নিয়ে অপপ্রচার করার কোন যোক্তিকতা নেই।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নিন্ম বিষয় গুলোতে গুরুত্ত্ব দিয়েছেন।

  • পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণ বৃদ্ধি করা।
  • মার্চেন্ট ব্যাংকার ওপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ব্যাবস্থা করা।
  • আইসিবির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • বাজাৱের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।
  • প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহন করা।
  • বাজারে আরো ভালা ও মানসম্পন্ন  আইপিও তালিকাভূক্তির লক্ষ্যে বহুজাতিক কোম্পানী ও সরকারী লাভজনক কোম্পানী সমূহকে তালিকভূক্তির উদ্যোগ নেয়া।

আমরা আশা করি উপরোক্ত বিষয়াদি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে এবং পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে যা বাজারে গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে। বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের স্বনামধন্য কোম্পানী সমুহকে বাজারে তালিকা ভুক্তি বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য ও নীতি সহায়তা দরকার। বর্তমানে ব্যাংক থেকে সহজে অর্থের যোগান হয়ে যায় বলে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাব দিহীতার কঠিন প্রয়োগে কিছু ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে প্রবেশ করতে চায় না। অথচ সল্প মেয়াদী আমানত নিয়ে ব্যাংক সমূহ দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ সরবরাহ করছে যা তারল্যে অসামঞ্জস্যতা তৈরী করে। আমরা মনে করি বৃহৎ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সমুহকে পুঁজিবাজারে আনতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থা,( বিশেষ করে রেয়াত ,ভ্যাট রেয়াত) করা প্রয়োজন।

আমরা আশা করি আইসিবি এর পুঁজিবাজারের ভূমিকাকে দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহন বাড়ালে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীর আস্থা ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং পুঁজিবাজার অভিষ্ঠলক্ষে পৌছাতে সক্ষম হবে।

সাইদুর রহমান বলেন, ২০২০ সাল মুজিব বর্ষ-কমিশনের স্লোগানের সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে আমরাও মনে করি “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, উন্নয়ন-অর্থায়নের উৎস হবে পুঁজিবাজার”। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন ও মুজিব বর্ষ উদ্যাপন করবে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। ২০২১ আমাদের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী। আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সচল রাখতে হলে পুঁজিবাজারকে গতিশীল রাখতে হবে। যে কোন দেশের উন্নয়নের মাত্রা পরিমাপে পুঁজিবাজার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে পুঁজিবাজার এখনও আশানুরুপ অবস্থায় পৌছায়নি। তবে আমরা আশা করি অচিরেই পুঁজিবাজার দৃ্শ্যমান উন্নয়নে পৌছাবে। যে কোন বিষয়েই উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের সাথে আইন, কাঠামো, পদ্ধতি সকল বিষয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের চেষ্টা করতে হয়। সকল অংশীজনের সমন্বয়ে পুঁজিবাজার গতিশীল হবে।

আমাদের এ নবনির্বাচিত কমিটি সুশাসনের বিষয়ে বিএমবিএ এর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের মূল চালিকা শক্তি হলো হিসাব বিবরণী এবং এর সময় উপযোগী মান উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। সে আলোকে হিসাব-বিদদের সংগঠন ICAB এবং FRC এর সাথে আলোচনা করা হবে। তাছাড়া এ বিষয়ে আগামি মার্চে একটি সেমিনার করার পরিকল্পনা আছে। শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে বিএমবিএ এর পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে এবং নিন্মলিখিত বিষয়াদির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করে যাবে বলে আশা করছি:

  • সতেচন বিনিয়োগ অর্থনৈতিক উন্নতির প্রধান শর্ত। সচেতন ও সঠিক বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।
  • সরকারের নীতি নির্ধারনী পক্ষ সমূহের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও সমন্বয় সাধন করা। প্রয়োজনীয় আইনী পরিবর্তন ও পরিবর্ধন এর সুপারিশ করা ।
  • পূজি বাজারের সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সমুন্নত রাখা।
  • ভাল উদ্যোক্তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো। কেননা ভাল উদ্যোক্তা ব্যতিত পুঁজিবাজার তথা অর্থনৈতিক উন্নতি অসম্ভব।
  • পুঁজি বাজারের আকার বৃদ্ধিতে গুনগত মান সমৃদ্ধ বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকা ভূক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করবে।
  • পুঁজি বাজারের সার্বিক মূল্যায়নের জন্য সকল অংশীজনের সমন্বয়ে প্রতি ছয় মাসে ১টি বৃহৎ সেমিনার করার উদ্যোগ নেয়া।
  • আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত/প্রচলিত অথচ আমাদের পুঁজি বাজারে অনুপস্থিত সেই সকল বিষয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করা এবং প্রয়োজনীয় আইনের জন্য সুপারিশ করা।
  • বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে বছরে ১টি আন্তর্জাতিক সেমিনার করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন,বিএমবিএ এর সহ সভাপতি ও আইডএলসির সিইও মনিরুজ্জামান, বিএমবিএ এর সেক্রেটারী  রিয়াদ মতিন , আলফা ক্যাপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টোর  নূর আহমেদ, বানকো ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টোর ও সিইও মোহাম্মদ হামদুল ইসলাম, এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী মাহবুব এইচ মজুমদার প্রমুখ