ভারতের মন্ত্রীর টুইটে এক লাফে কেজিতে কমল ২০ টাকা
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০২-২৯ ১৫:৪২:৪৯
মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ ও রসুনের সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সব ধরনের পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা এবং রসুনের দাম কমেছে ৪০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহে আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। খুচরা বাজারে মানভেদে গতকাল দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে, গত সপ্তাহেও যা ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। এ ছাড়া গেল সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
এদিকে ভারতের খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক টুইট বার্তায় জানান, বাজার স্থিতিশীল থাকায় এবং প্রচুর উৎপাদন হওয়ায় ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যবসায়ীরা বাজারে পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি দেশি নতুন হালি পেঁয়াজের সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে দাম আরও কমে যাবে বলছিলেন পেঁয়াজের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লাকসাম বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান।
কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজের পাইকারি দোকান বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফয়েজ জানান, বৃহস্পতিবার থেকে দুধাপে দাম কমে শুক্রবার পাইকারিতে দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও কমছে। চলতি সপ্তাহে আবারও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চীনের করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কদিন আগে রসুনের বাজার অস্থির হয়ে উঠলেও কিছুটা স্বস্তি এনেছে দেশি নতুন রসুন। খুচরা বাজারে দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। কোথাও কোথাও আরও কমেও বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে অবশ্য ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। অন্যদিকে আমদানিকৃত চায়না রসুনের বর্তমান দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, দুদিন আগে যা ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। আর আগের সপ্তাহে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
শ্যামবাজারের রসুনের পাইকারি প্রতিষ্ঠান মিতালী বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী কানাই সাহা জানান, চীন থেকে নতুন করে আমদানি হচ্ছে না। তবে দেশি নতুন রসুন উঠতে শুরু করায় দাম কমেছে। পাইকারি বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। অন্যদিকে পাইকারিতে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। দুদিন আগেও তা বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়।
এদিকে চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে। কারওয়ানবাজারের কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহেও যা ছিল ৬০ থেকে ৬২ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ চিনির বস্তাতেই (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমানে ৩ হাজার ১৪০ থেকে ৩ হাজার ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০ থেকে ৩ হাজার ৬০ টাকায়।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














