বরিশালে বন্ধ হলেও সিলেটে চলছে বাণিজ্য মেলা
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৬ ১৪:০৩:৪৬
বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯। এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জনসমাগম বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশালে শুরু হওয়া মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র সিলেটে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে চলছে সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।
এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সব ধরনের জনসমাগমই করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটা মেলার আয়োজক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জানেন। সরকারের পক্ষ থেকেও মাঠ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাকেই জনসমাগম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তার পরও কী করে বাণিজ্য মেলা চলছে বুঝতে পারছি না। আশা করি শিগগিরই এটি বন্ধ করে দেয়া হবে।
এর আগে ৭ মার্চ সদর উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত মাসব্যাপী ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। এর পরদিনই (৮ মার্চ) দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। ওইদিন ইতালিফেরত দুই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। একই দিনে জনসমাগম এড়াতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয়া হয়।
এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় সিলেটের গোলাপগঞ্জে শ্রীচৈতন্যদেবের পৈতৃক বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এর আগে তাহিরপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান ও শাহ আরেফিন (র.) মাজারের ওরস বন্ধ করে দেয়া হয়। গতকাল সিলেটে ভোক্তা অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মেলার জনসমাগমে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এর জবাব আসেনি।
সরেজমিন শাহী ঈদগাহ মাঠে বণিজ্য মেলায় গিয়ে দেখা যায়, লাইন ধরে দর্শনার্থীরা ঢুকছেন মেলায়। মেলার মাঠে হাজারো মানুষের ভিড়। একেবারে গাদাগাদি অবস্থা। চারদিকে ধুলো উড়ছে। এর মধ্যে মেলা ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। যাদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি।
করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে সিলেটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন অব্যাহত রাখার সমালোচনা করে সিলেটের নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কীম বলেন, সিলেটে বাণিজ্য মেলার লোকসমাগম ও ভিড় জমানোর ক্যাম্পেইন দেখে মনে হয় সিলেট করোনাভাইরাস মুক্তাঞ্চল। ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে অসংখ্য মানুষের জীবনের ঝুঁকিও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুল গাফফারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মেলার আয়োজক সংগঠন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আফজাল রশিদ চৌধুরী বলেন, মেলায় আমরা জনসমাগম সীমিত রাখার চেষ্টা করছি। করোনাভাইরাস সচেতনতায় প্রচারপত্র বিলি করছি। এছাড়া সিলেটে তো এখনো কোনো সংক্রমিত রোগী ধরা পড়েনি। তাই আশা করছি এখানে ঝুঁকি কম।
যদিও গতকালই একটি সেমিনারে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী দাবি করেন, দেশের মধ্যে সিলেট সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মতে, সিলেট অঞ্চলে বিদেশীদের আসা-যাওয়া বেশি। সে কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক দিয়ে সিলেট ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য যারা এরই মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন, তাদের জনসমাগমে না এসে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে গতকাল দুপুরে বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানের নির্দেশে মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, এমন আয়োজনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














