রফতানি খাতে ৪০০ কোটি টাকা ছাড়ের নির্দেশ
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ০৮:১০:৫৮
বিভিন্ন পণ্যের রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহ দিতে প্রতি অর্থবছরই রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। চলতি অর্থবছরও এজন্য বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে চতুর্থ কিস্তির (এপ্রিল-জুন ২০২০) ৪০০ কোটি টাকা ছাড়ের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মহানিয়ন্ত্রকের ডেবিট অথরিটি জারিসহ সরকারের অন্য দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ সুবিধা নিতে পারবেন রফতানিকারকরা।
গত ১১ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ভর্তুকির অর্থছাড়ের নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ, চামড়াজাত দ্রব্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্যসহ অনুমোদিত অন্যান্য খাতে রফতানির বিপরীতে দেয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে অর্থছাড়ের কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে সরকার। বরাদ্দের অর্থ থেকে চলতি অর্থবছরে চতুর্থ কিস্তি বাবদ মোট ছাড়ের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা রয়েছে পাটজাত দ্রব্য রফতানির জন্য। বাকি ২৯৯ কোটি টাকা অন্যান্য দ্রব্য রফতানিতে ভর্তুকি। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুনের জন্য এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারের অর্থছাড়ের নির্দেশনায় আট ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। আটটি শর্তের প্রথমেই আছে চতুর্থ কিস্তিতে ছাড় করা অর্থ দিয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুকূলে খাতভিত্তিক প্রণোদনা/নগদ সহায়তা পরিশোধ করতে হবে। আবার দাবি পরিশোধের পর নিরীক্ষায় প্রাপ্য অর্থের চেয়ে বেশি পরিশোধিত হয়েছে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায়পূর্বক গ্রহীতার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অর্থ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
তৃতীয় শর্ত হলো, অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব আর্থিক বিধিবিধান ও অনুশাসনাবলি এবং বিভিন্ন খাতে নগদ সহায়তা প্রদানের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। চতুর্থ শর্তে বলা আছে, অর্থ গ্রহীতাকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে অঙ্গীকার প্রদান করতে হবে যে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বা অন্য কোনো অনিয়ম পরবর্তী সময়ে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং প্রদত্ত অর্থ ফেরত প্রদানে বাধ্য থাকবে।
পঞ্চম শর্তে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে রফতানি খাতে নগদ সহায়তা/প্রণোদনা পরিশোধে বিদ্যমান পদ্ধতি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এছাড়া চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তিতে ছাড় করা ৪০০ কোটি টাকার খাতওয়ারি ও ব্যাংকওয়ারি বিস্তারিত হিসাব বিবরণী পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে আরেকটি শর্তে।
কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সংযুক্ত তহবিল থেকে উত্তোলন করা যাবে এমন নির্দেশনা দিয়ে শর্তে আরো বলা আছে, প্রণোদনা/নগদ সহায়তা পরিশোধের নিমিত্ত ছাড়কৃত অর্থের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এ অর্থের মধ্যে যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














