৮ শতাংশের বেশি রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা 

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৮ ০৭:২৯:৩১


চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম না হলেও আগামী অর্থবছরের জন্য তা বাড়ানো হচ্ছে ৮ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় করনির্ভরতাও। এদিকে এবারই প্রথম জিডিপির ৬ শতাংশের ঘরে উঠছে ঘাটতি বাজেট। একই সঙ্গে তা বাড়ছে প্রায় ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণনির্ভরতা থাকছে আগামী অর্থবছরেও।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বেশ সংশয়ে রয়েছে সরকার। অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা কম। বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের এ লক্ষ্য পূরণ প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যেই আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্য বাড়ানো হচ্ছে ৮ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

আগামী অর্থবছরের জন্য স্থিরীকৃত রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রায় এককভাবে করনির্ভরতা অনেক বেশি। করের মাধ্যমে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯২ শতাংশ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এতে। চলতি অর্থবছরেও সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় করের অবদান ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। ২০১৯-২০ সালের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় কর থেকে প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। সেখানে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য ঘাটতি রাখা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এবারই প্রথম ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে জিডিপির ৬ শতাংশে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ বাড়ছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

সরকারের ব্যয়ের দুটি বিভাজন থাকে। একটি পরিচালন ব্যয় আরেকটি আবর্তক কিংবা উন্নয়ন ব্যয়। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় রাখা হচ্ছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের চেয়ে মোট ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাবে ঋণের সুদ পরিশোধে। ২০১৯-২০ সালে অভ্যন্তরীণ সুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। সেটি বাড়িয়ে ২০২০-২১-এ ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণের সুদের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২০-২১-এ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা।

সরকার তার ঘাটতি মেটানোর জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে থাকে। বৈদেশিক ঋণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ এবং ব্যাংকবহির্ভূত ঋণের মাধ্যমে অর্থের সংস্থান করে থাকে। অভ্যন্তরীণ ঋণ অর্থসংস্থানের বড় উৎস। ২০১৯-২০ সালে সংশোধিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেটি বাড়িয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘাটতি মেটানোর জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে থাকে সরকার। এসব উেসর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক ঋণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ এবং ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ। এর মধ্যে বড় একটি উৎস অভ্যন্তরীণ ঋণ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য সেটি বাড়িয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর ঋণের নির্ভরতা অব্যাহত থাকছে আগামী অর্থবছরেও। ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের জন্য এ ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩১ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৫৩ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এবারের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকায়।

মোট দেশজ উৎপাদন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি: প্রায় এক দশকে ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৮ শতাংশের বেশিতে। কিন্তু চলমান কভিড-১৯ মহামারীর কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ বলছে, এবার ২-৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত জিডিপির পরিমাণ ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরের জন্য উচ্চহারের প্রবৃদ্ধিও প্রাক্কলন করা হচ্ছে