সারা দেশে মোট আইসিইউ ৭৩৩টি

মনিটরিং ঠিক থাকলে মানুষ কেন হাসপাতালে ঘুরছে: হাইকোর্ট

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০৬-১০ ১৯:৪৮:০৮


রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না পেয়ে একাধিক রোগী মারা যাওয়ার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, হাসপাতালে মনিটরিং ব্যবস্থা ঠিক থাকলে মানুষ কেন হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছে?

বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সরকারের অধিগ্রহণ করা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ গঠন করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই প্রশ্নে করেন। এ রিট আবেদনটিসহ অক্সিজেন সংকটের বিষয়ে করা রিটের ওপর একসঙ্গে আদেশ দেওয়ার জন্য ১৪ জুন দিন ঠিক করেছেন আদালত।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, সারা দেশের সরকারি আদালতগুলোতে মোট ৭৩৩টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড রয়েছে ২৩৫টি।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ গত ৮ জুন রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এসব তথ্য জানতে চান। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা আজ আদালতকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসার জন্য সারা দেশে ১৭টি হাসপাতালে ২৩৫টি আইসিইউ রয়েছে। আর সারা দেশে সরকারি হাসপাতালে ৭৩৩টি আইসিইউ রয়েছে। এর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এটা বাড়ানো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

মুরাদ রেজা বলেন, ‘শুধু আইসিইউ করলেই হবে না, তা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে আইসিইউগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। কারও যদি আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয় তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে ফোন দিলেই জানা যায়। নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে সিট খালি আছে। সেখানে রোগী পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এভাবেই কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী ইয়াদিয়া আদালতকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য সঠিক নয়। গত মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, একজন ডাক্তার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও আইসিইউ পাননি। অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই ডাক্তার ঘুরতে ঘুরতে কোনো হাসপাতালে আইসিইউ না পেয়ে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।’

ইয়াদিয়া আরও বলেন, ‘একজন ডাক্তার কি জানেন না, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের কথা? হটলাইনে ফোন করলেই যদি সিট বা আইসিইউ খালি থাকার তথ্য জানা যেত, তাহলে একটি আইসিইউ বেডের আশায় ওই চিকিৎসক কেন এ হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেছেন? আমি নিজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫টি হটলাইনে ফোন করেছি। এর মধ্যে চারটিই রিসিভ করেনি কেউ। একটি হটলাইন রিসিভ করে আমাকে দুটি হাসপাতালের নাম বলল। কিন্তু সিট খালি আছে কি না,তা বলতে পারেনি। একটি হাসপাতালের ফোন নম্বর দিয়ে ওই হাসপাতালে ফোন করতে বলা হলো। এই হলো অবস্থা।’

শুনানিকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের কাছে প্রশ্ন করেন। এরপর আদালত আগামী ১৪ জুন আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালের ‘আইসিইউ বেড অধিগ্রহণ’ ও অনলাইনে ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ গঠনের নির্দেশনা চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেপুটি রেজিস্ট্রার শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৬ জুন শনিবার ওই রিটটি করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সচিব এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস