মহামারিতে স্থবির নির্মাণকাজ
মেগা প্রকল্পগুলোর কাজে গতি আনতে চায় সরকার
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৭ ০৮:২৮:১৫
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মারণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে তিন মাস ধরে স্থবির মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। ১০টি স্প্যানসহ পদ্মা সেতুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাজ বাকি। কাজের গতি কমেছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পেও। এই ভাইরাসের বিরূপ প্রভাব পড়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশে সব মেগা প্রকল্পে। ফলে সঠিক সময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোয় গতি আনতে চায় সরকার। এজন্য প্রকল্পে কর্মরত বিদেশী পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর টাস্কফোর্সের একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাস্তবায়নাধীন ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে করোনাভাইরাসের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য পুরোদমে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়, প্রকল্পগুলোর বিদেশী পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর।
বৃহস্পতিবারের ওই ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এতে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনা সংকটের মধ্যেও পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা যেটা আছে, সেটা পরামর্শকদের নিয়ে। ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকরা করোনার কারণে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের দ্রুত প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসার জন্য আমরা যোগাযোগ শুরু করেছি। তারা এসে পৌঁছলেই পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে। তবে বিষয়টা আমাদের ওপর নির্ভর করছে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার তাদের নাগরিকদের দেশ ত্যাগের অনুমতি দিলে তবে তারা আসতে পারবেন। তারাও আসতে আগ্রহী। কয়েকজন আগামী মাসেই চলে আসতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।
এর আগে ২৪ জুন পদ্মা সেতুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সেতু বিভাগের সচিব। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, টানা তিন মাস ধরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী, পরামর্শক, ঠিকাদার ও কর্মীরা প্রকল্প এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছেন। কভিড অতিমারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানো হবে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে গতি কম হলেও এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ বলতে গেলে থমকে আছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে প্রকল্পটি। এ প্রকল্পের পরামর্শক দলের বড় অংশটিই জাপানের নাগরিক, যারা বর্তমানে নিজ দেশে অবস্থান করছেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের একটি সূত্র নিয়েছে, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকা যেসব গাইডলাইন দিয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেসব গাইডলাইন অনুসরণ করে মেট্রোরেলের কাজ চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।
২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল সরকার। তবে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গত তিন মাসে প্রকল্পের কোনো কাজই এগোয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি ছিল ৪৪ শতাংশ। মে মাস শেষেও অগ্রগতির গ্রাফে একই তথ্য তুলে ধরেছে ডিএমটিসিএল।
আরেকটি ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে নির্মাণকাজের গতি কমেছে এ প্রকল্পটিরও। প্রকল্পটির মাসভিত্তিক অগ্রগতির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ কাজের অগ্রগতি হয়েছিল ২ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরো ২ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়। এরপর থেকেই কমতে থাকে কাজের গতি। ফেব্রুয়ারিতে ১ শতাংশ, মার্চে দশমিক ৫ শতাংশ ও এপ্রিলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেপদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, করোনা সংকটের মধ্যেও একদিনের জন্য রেল সংযোগের কাজ বন্ধ থাকেনি। তবে গতি কিছুটা কমেছে। সামনে আমরা কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পেও থাবা বসিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। এর মধ্যেই সম্প্রতি প্রকল্পের ইউনিট-১-এর মূল রিঅ্যাক্টর ভবনের তৃতীয় ধাপের কনক্রিট ঢালাই কাজ শুরু হয়েছে। ২০২২ ডিসেম্বর উৎপাদনে যাওয়ার কথা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের। পুরো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এ প্রকল্পটি নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন রাশিয়ার নাগরিকরা। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, পরামর্শকদের ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে এরই মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। দ্রুত তাদের চার্টার্ড ফ্লাইটে করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের পরামর্শক ও কর্মীদের চিকিৎসাসেবার জন্য পাবনা হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথাও জানান তারা।
এসব প্রকল্পের পাশাপাশি ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারী-কক্সবাজার-রামু রেলপথ নির্মাণ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজেও গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সূত্র-বণিক বার্তা






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














