২০২০-২১ অর্থবছর
৩৭.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্য
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৯ ০৮:০২:৫৫
আগামী (২০২০-২১) অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৭ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭৪৪ কোটি) ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এর মধ্যে সেবা খাত থেকে রফতানি হতে পারে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন (৭৬০ কোটি) ডলারের।
ইপিবির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, মোট রফতানির ৮২ শতাংশেরও বেশি হবে পোশাক খাত থেকে। সেক্ষেত্রে রফতানি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৩ শতাংশ।
সংস্থাটির প্রত্যাশা, চলতি অর্থবছরে ৩৩ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারের রফতানি হতে পারে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
এ ব্যাপারে ইপিবি সূত্র জানিয়েছে, রফতানি লক্ষ্য নির্ধারণ করে এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যদিও সংস্থাটি খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারেনি। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, যা ঘোষণা করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান কভিড-১৯ পরিস্থিতিকে পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানিকে ভিত্তি ধরে আগামী অর্থবছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই ও ডিসেম্বর ছাড়া চলতি অর্থবছরের সব মাসেই রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারা নেতিবাচক। রফতানিকারকরা বলছেন, চলমান কভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশংকা রয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ইতিহাসের নজিরবিহীন সময় অতিক্রম করছে রফতানি। কারণ কভিড-১৯ বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হলো রফতানি। মাইক্রো ও ম্যাক্রো অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে রফতানি অপরিহার্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে রফতানি হয়েছিল ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের। সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে পোশাক খাতের কম্পাউন্ড বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এ সময় রুবানা হক আরো বলেন, চলতি অর্থবছর প্রায় শেষ। ২৭ জুন পর্যন্ত পোশাক রফতানি হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের। চলতি অর্থবছর শেষে পোশাক রফতানি ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা ১৯ শতাংশ হারে পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পোশাক শিল্পের ইতিহাসে রফতানিতে এমন পতন হয়নি। চলতি অর্থবছরে রফতানি কমার পরিমাণ ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার রফতানি কমেছে অর্থবছরের প্রথমার্ধে। আর বাকি ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রফতানি কমেছে দ্বিতীয়ার্ধে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে বিশ্ববাজারে সব মিলিয়ে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যেখানে ২০১৯ সালের মে মাসে রফতানি করেছিল ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকেই নেতিবাচক ধারায় রয়েছে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার। কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের আগে ফেব্রুয়ারিতেও যা অব্যাহত ছিল। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মার্চের দিকে এ নেতিবাচক ধারার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, মার্চে বাংলাদেশের সব পণ্যের রফতানি কমেছে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এপ্রিলের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। এ সময় রফতানি কমেছে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে গত বছরের মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে রফতানি কমেছে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ইপিবির সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে বিশ্ববাজারে ৩ হাজার ৯৫ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৬৭৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ ১১ মাসের হিসাবে রফতানি হ্রাস পেয়েছে ১৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














