লেবু চাষে সংগ্রামী যুবকের সফলতা

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০৭-০১ ২২:৪২:৪৬


ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে লেবু ও কলম চারা বিক্রি করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মনির হোসেন নামে জীবন সংগ্রামী এক যুবক। মাত্র তিন বছরের প্রচেষ্টা ও সফলতায় তিনি এ স্বপ্ন দেখছেন। ইতিমধ্যে এই স্বপ্নের ঘোর লেগেছে এলাকার আরো সহস্রাধিক যুবকের চোখে। মনির হোসেনের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তারাও লেবু চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলার পাগলা থানাধিন পাইথল ইউনিয়নের জয়ধরখালী গ্রামে মনির হোসেনের এই স্বপ্নের লেবু রাজ্য গড়ে উঠেছে। বিশাল আয়তনের লেবু বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লেবু ও লেবু ফুলের মৌ মৌ গন্ধে যে কারো প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

জানা যায়, উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের জয়ধরখালী গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের ২০১৬ সালে অভাব অনটনের কারনে নবম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছুদিন বাড়ির পাশে মুদি দোকান দিলেও সুবিধা করতে পারেননি। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় জমি বিক্রি ও ধার-কর্জ করে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি সিএনজি গাড়ি কিনে চালাতে থাকেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং পেশাতেও মন বসাতে পারেন না মনির হোসেন। সব সময় ভাবতে থাকেন কিভাবে অন্য রকম অধিক লাভ জনক কিছু করা যায়।

গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পাইকারি লেবু ব্যবসা করেন মনির হোসেনের মামা শফিকুল ইসলাম। মনির হোসেন তার ভাবনার কথা মামা শফিকুল ইসলামকে জানিয়ে পরামর্শ করেন। ২০১৭ সালের বর্ষাকালে একদিন সময় করে শফিকুল ইসলাম ভাগ্নে মনির হোসেনকে নিয়ে তার গাড়িতেই টাঙ্গাইলের শখিপুরের জনৈক লেবু চাষি মোছলেম উদ্দিনের বাগানে যান। বিশাল লেবু বাগান ঘুরে কথা বলে মনির হোসেনের ভালো লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে মনির হোসেন ১৫ হাজার টাকায় ঐ বাগান থেকে বারোমাসি সিডলেজ জাতের ৩০০ কলম চারা ক্রয় করে নিয়ে আসেন। পরে বাড়ির পাশের নিজস্ব ৩০ শতাংশ পতিত টান জমিতে চারাগুলো লাগিয়ে দেন। লেবু গাছের ফাঁকে শাক-সব্জির আবাদ করেন।

এ যেন মনির হোসেনের স্বপ্নের বীজ বুনা। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম বছরেই মনির হোসেন প্রায় দেড় লাখ টাকার লেবু-শাক-সব্জি বিক্রি করেন। দ্বিতীয় বছর থেকে কলম চারা উৎপাদন এবং শাক-সব্জি বাদ দিয়ে লেবু ও কলম চারা বিক্রি শুরু করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেন। এ সময় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাঠ সহকারী বাবুল মিয়া মনির হোসেনকে তার বাগানের পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। পরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সদস্য হয়ে মনির হোসেন ৫০ হাজার টাকা লোন নেন এবং সিএনজি বিক্রি করে সমুদয় টাকা লেবু বাগান সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে ৯০ শতাংশ জমির উপর মনির হোসেনের লেবু বাগান অবস্থিত। চলতি বছর তিনি প্রতি পিস কলম চারা ৫০ টাকা দরে ৬০ হাজার কলম চারা বিক্রি ও লেবুসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

এ ছাড়া লেবু বাগানের পাশেই ১০টি গরু নিয়ে একটি ডেইরি খামার ও এক স্বজনের সাথে একই গ্রামে যৌথ ভাবে এক একর ৭০ শতাংশ জমির ওপর আরো একটি লেবু বাগানের কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনির হোসেনের লেবু বাগান দেখে বিনামূল্যে তাকে ১০০ মাল্টার চারা দিয়েছেন। বাড়ির পাশেই মাল্টা বাগান করার কাজ চলছে।

মনির হোসেনের বাগান ও অল্প দিনে তার সাফল্য দেখে আশপাশের এলাকার প্রায় সহস্রাধিক বেকার যুবক লেবু বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সবাই মনির হোসেনের সাথে পরামর্শ করে তার কাছ থেকে কলম চারা কিনে নিচ্ছেন।

মনির হোসেন বলেন, লেবু বাগান করে আমি পাকা বাড়ি করেছি, মোটরসাইকেল কিনেছি। এখন আমি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার বাগান দেখে আশপাশের এলাকার শত শত বেকার যুবক লেবু বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ইউনিয়ন মাঠ সহকারী বাবুল মিয়া বলেন, আমি মনির হোসেনকে শুধু বাগান সম্প্রসারণের পরামর্শ দেইনি। তার বাগান দেখে আমি নিজেও একটি লেবু বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি।

উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির বলেন, কর্মট, উদ্যোমী, উদ্যোগী মনির হোসেনের এই সাফল্য চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেকোনো বেকার যুবক ইচ্ছে করলে আমাদের সহায়তা নিয়ে অল্প পুঁজি দিয়েই এ ধরনের কাজ শুরু করতে পারেন। সূত্র-কালের কন্ঠ

সানবিডি/এনজে