মহামারি করোনা
পরিবহন খাতের পাঁচ লাখ শ্রমিক বেকার
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০৭-১৬ ০৮:৩১:১৬
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালে অলস বসিয়ে রাখতে হয়েছে সড়কপথের যাত্রীবাহী সব পরিবহন। অন্যদিকে করোনার কারনে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির পর পরিবহন চলাচল শুরু হলেও আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না এখন। উপরন্তু যাত্রী চাহিদা না থাকায় এখনো অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে অধিকাংশ পরিবহন। ক্ষতি কাটাতে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলেও এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না সড়ক পরিবহন খাত।
একসময় দেশজুড়ে দিনে এক হাজারের বেশি বাস চলত হানিফ এন্টারপ্রাইজের। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৬৫০টি বাস অলস বসে আছে প্রতিষ্ঠানটির। বেকার হয়ে পড়েছেন চালক, সুপারভাইজারসহ একেকটি বাসের অন্তত তিনজন কর্মী। অলস বসিয়ে রাখায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এসব বাসের সিংহভাগই কেনা হয়েছে ব্যাংকঋণ নিয়ে। মালিকের কাঁধে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ। দেশের অন্যতম শীর্ষ পরিবহন কোম্পানির বর্তমান দশা এটি। বড়-ছোট সব পরিবহন কোম্পানিকেই চরম বিপদে ফেলে দিয়েছে কভিড-১৯।
ঢাকার কল্যাণপুরে অবস্থিত বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলোয় সব সময় ভিড় লেগে থাকত। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ছেড়ে যেত গাড়ি। গাড়ির চালক-সুপারভাইজার আর কাউন্টার কর্মীর হাঁকডাকে সরগরম থাকত পুরো এলাকা। কাউন্টারের চেয়ারে ঠিকমতো বসার জায়গাই পেতেন না যাত্রীরা। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বদলে গিয়েছে পুরো দৃশ্যপট। কাউন্টারে কাউন্টারে এখন তীর্থের কাকের মতো যাত্রীর অপেক্ষায় থাকছেন কর্মীরা। একজন যাত্রী এলে আগবাড়িয়ে তাকে ধরতে ছুটে যাচ্ছেন কর্মীরা। হচ্ছে যাত্রী নিয়ে টানাটানিও। ঘণ্টায় ঘণ্টায় গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার দিন আর নেই। ২ ঘণ্টা কখনো ৩ ঘণ্টার মতো বিরতি দিয়েও একটি গাড়িতে হচ্ছে না ১০-১২ জনের বেশি যাত্রী।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দেয়া তথ্য বলছে, বাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সারা দেশে চলাচলরত পরিবহনের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় এগুলোর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বর্তমানে চলতে পারছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এসব গাড়ির ৭০ শতাংশের বেশি চলাচল করত। এতগুলো গাড়ি বসিয়ে রাখার কারণে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছেন পরিবহন খাতের অন্তত পাঁচ লাখ শ্রমিক।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














