গতি বাড়ছে মেট্রোরেল নির্মাণকাজের

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২০-০৭-১৮ ০৫:৩৩:১৯


মারণঘাতি নভেল করোনাভাইরাসে দেশের যেসব মেগাপ্রকল্পের নির্মাণকাজের গতি শ্লথ করে দিয়েছিল, তার মধ্যে রাজধানীর মেট্রোরেল অন্যতম। চলতি বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই গতি হারায় মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে বলতে গেলে নির্মাণকাজে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে জুন থেকে কিছুটা হলেও গতি বেড়েছে নির্মাণকাজে। নেয়া হয়েছে বিদেশী প্রকৌশলীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। কর্মীদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে দুটি ফিল্ড হাসপাতাল।

দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে উত্তরা থেকে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত । এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ চলে এসেছে শেষের দিকে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজও এগিয়ে যাচ্ছিল দ্রুতগতিতে। নির্মাণকাজের গতি হারায় নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে। চলতি বছরের মার্চে প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি ছিল ৪৪ শতাংশ। এপ্রিল ও মে মাসেও অগ্রগতির হার আটকে আছে ৪৪ শতাংশের ঘরে। জুনে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রকল্পটির অগ্রগতির চিত্র। মে মাস শেষে যেখানে প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি ছিল ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সেখানে জুনের শেষে সার্বিক গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অগ্রগতি বাড়লেও প্রকল্পটির কর্মীদের মধ্যে হানা দিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত জুন পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মেট্রোরেলের ৬১ জন কর্মী। প্রকল্প কার্যালয় জানিয়েছে, চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথম পর্যায়ে গাবতলী কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১০ শয্যা ও উত্তরার পঞ্চবটি কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১৩ শয্যার আরেকটি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবল যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে পারে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করতে পারে সেজন্য প্রকল্প এলাকায় আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেট্রোরেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজে যোগদানের সময় প্রাথমিকভাবে কভিড-১৯-এর উপসর্গ আছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরপর যারা কাজে যোগদান করছেন, তদের নভেল করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারো করোনা শনাক্ত হলে তাদের হোম অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে ভর্তিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর টাস্কফোর্সের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় এসব প্রকল্পের কাজে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। মূলত এরপর থেকে গতি বেড়েছে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি-৬ (মাস র্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেল) নির্মাণ করছে সরকার। দুটি অংশে বাস্তবায়ন হচ্ছে এ প্রকল্প। প্রথম অংশে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং দ্বিতীয় অংশে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এলিভেটেড লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মতিঝিল থেকে মেট্রোরেলের এ লাইনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী বছরের ডিসেম্বরে দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য থাকলেও নভেল করোনাভাইরাস এসে সরকারের সেই লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সানবিডি/এনজে