ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে বিএসইসি'র চিঠি
দাবিহীন নগদ টাকা ও শেয়ারের তথ্য দেয়ার নির্দেশ
:: আপডেট: ২০২০-১১-২৩ ১০:৩৯:৩২
#জমাকৃত অর্থের পরিমাণ জানেনা বিএসইসি
#তথ্য দিতে হবে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে
#তথ্য সংগ্রহ করে তা কাজে লাগানো হবে
দেশের সকল ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত হিসেবের দাবিহীন নগদ টাকা ও শেয়ারের তথ্য চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. কাউসার আলী স্বাক্ষরিত চিঠেতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর কমিশন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছিলো। পরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশের তথ্য সংগ্রহের জন্য চিঠি দেয় বিএসইসি। সেখানে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য চেয়ে কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ডিএসই কোম্পানিগুলোকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
তবে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিষ্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৭ দিন সময় বাড়িয়েছে বিএসইসি। এবার বিপিএলসি’র পাশাপাশি দেশের সকল ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবের তথ্য চেয়েছে কমিশন। সকল তথ্য কমিশনের হাতে আসার পর সেগুলোকে নিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় বিএসইসি।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বছর শেষে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। পরবর্তীতে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় পর্ষদের ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা। অনুমোদনের ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে এই লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছাতে হয়। অনেক সময় শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাব বা ঠিকানা ভুল থাকলে লভ্যাংশ যায় না। এই জন্য কোম্পানিগুলো আলাদা একটি হিসাব খুলে এগুলো জমা রাখে। যাতে করে পরবর্তীতে কোন শেয়ারহোল্ডার অভিযোগ করলে তা পূরণ করা যায়। এই পরিমাণ অনেক হয়েছে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এটি একটি কার্যকর অবস্থা তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১১ ধারার ২ উপ-ধারা অনুযায়ী বিএসইসি তার নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোন সময়, যে কোন তথ্য চেতে পারে কমিশন।
সূত্র মতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের আলোকে গত ৫ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ব্যবস্থপনা পরিচালকদের কাছে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। প্রতিষ্ঠান তিনটিকে সকল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানিকে বিএসইসির নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠিটি পাঠিয়েছে। ১০ নভেম্বরের মধ্যে এই তথ্য চায় ডিএসই।
মো. ছায়েদুর রহমান সানবিডিকে বলেন, বিএসইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমাদের কাছে চাওয়া তথ্য সরবরাহ করার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই তথ্য জামা দিবেন।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সানবিডিকে বলেন, গ্রাহকদের বিও হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সব কোম্পানিতেই বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এগুলো দীর্ঘ দিন যাবত কোম্পানিগুলোর আলাদা একটি হিসাব জমা রাখা হয়েছে। কী পরিমাণ টাকা জমা আছে; আমরা তা জানি না। আগে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা ঠিক করা হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














