কৃষিখাতে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৪ শত ৪৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-০২-১৮ ২০:০৯:০২ || আপডেট: ২০২১-০২-১৮ ২১:১৭:৪৫

কৃষি খাতের আরও উন্নয়নের জন্য বেড়েছে কৃষিঋণ বিতরণ। তবে বিতরণ যেমন বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২০ দীর্ঘ সাতমাস কৃষিখাতে ঋণ বিতরণের কথা ছিল ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার ৫৪.৩২ শতাংশ বিতরণ করেছে যার টাকা পরিমাণ ১৩ হাজার ১০৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

কৃষিখাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই- জানুয়ারি) সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছেন ১৪ হাজার ১৪৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ঋণ খেলাপি হয়েছে ৪ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের জোর তৎপরতা এবং ব্যাংকগুলোর উদ্যোগের কারণে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে। তবে কৃষিঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের কৃষিখাতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার কথা ছিলো। তবে সবকটি ব্যাংকই পুরোপুরি তা বিতরণ করতে সক্ষম হয়নি। সবগুলো ব্যাংক যে টাকা বিতরণ করেছে তা পরিকল্পনার ৫৩.৮১ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংক লক্ষমাত্রার ৪৮.৬১ শতাংশ বিতরণ করেছে। যার পরিমাণ ৩৩০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, এই সাত মাসে এ ব্যাংকের খেলাপি রয়েছে ১৬৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বেসিক ব্যাংক লক্ষমাত্রার ২৪.৫৪ বিতরণ করেছে যার টাকার পরিমাণ ৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। খেলাপি রয়েছে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৯৩.৮০ শতাংশ বিতরণ করেছে যার টাকার পরিমাণ ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। এরই মধ্যে খেলাপি রয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৬২.৫২ শতাংশ বিতরণ করেছে যার পরিমাণ ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। একইসঙ্গে তাদের খেলাপি রয়েছে ১ হাজার ২৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংক ৪৬.০৬ শতাংশ বিতরণ করেছে। যার টাকায় পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ২০৫ কোটি৩৪ লাখ টাকা। রাজশাহী কৃষি ব্যাংক ৬৪.২৫ শতাংশ বিতরণ করেছে, যার পরিমাণ ১ হাজার ১১৮৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণ হয়েছে ১ হাজার ২০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রুপালী ব্যাংক লিমিটেড ১৮.৬৪ শতাংশ বিতরণ করেছেন যার টাকার পরিমাণ ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একই সময়ে তাদের ঋণ খেলাপি হয়েছে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংক লক্ষমাত্রার ৫৩.২৮ শতাংশ বিতরণ করেছে। যার টাকার হিসেবে ৬৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, একইসময়ে তাদের ঋণ খেলাপি হয়েছে ১ হাজার ২৬২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

কৃষি খাতে বৈদেশিক ব্যাংকগুলো লক্ষমাত্রার ৮৭.১১ শতাংশ বিতরণ করেছে যার টাকার পরিমাণ ৬১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বৈদেশিক ৮টি ব্যাংকের মধ্যে লক্ষমাত্রার বেশি বিতরণ করেছে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকটি ৬ কোটি টাকা বিতরণ করার কথা থাকলেও করেছে ২৫ কোটি টাকা। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ১৪ কোটি টাকার বিতরণ করার পরিকল্পনা নিলেও বিতরণ করেছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সময়ে দেশীয় ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংক লক্ষমাত্রার ৪৯.২১ শতাংশ বিতরণ করেছে যাদের টাকার পরিমাণ হলো ৭ হাজার ১৫৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। দেশি ব্যাংগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমান ২৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বেসরকারি ৩৯টি ব্যাংকের মধ্যে তিনটি ব্যাংক লক্ষমাত্রার পুরোটা বাস্তবায়ন করেছে। সেগুলো হলো মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, মিউসুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানীয়া বলেন, প্রণোদনার টাকা ছাড়াই এই ঋণ বিতরণ হয়েছে। প্রণোদনার টাকা যোগ করা হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে সরকারের দেওয়া টার্গেট নির্ধারিত সময়ে পুরণ হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •