প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণে আগ্রহ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে

:: গিয়াস উদ্দিন ও সাখাওয়াত প্রিন্স || প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৬ ১৯:৪১:২০ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৬ ২২:২১:৫৩

জেনারেল ব্যাংকিং এর চেয়ে বিদেশ থেকে প্রবাসিরা রেমিটেন্স পাঠাতে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আগ্রহ বেড়েছে। গত ২০১৯ সালের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৬ শতাংশের বেশি রেমিটেন্স এসেছে। যা ২০১৯ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।

অন্যদিকে গেল বছরের শেষে মোট রেমিটেন্সের প্রবাহের ৪০ শতাংশের বেশি মাধ্যম ছিল ইসলামী ব্যাংক। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সাধারণ ব্যাংকগুলোর তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছে।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত ডেভলেপমেন্ট অফ ইসলামী ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ অক্টোবর- ডিসেম্বর ২০ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো রিয়েল টাইম ব্যাংকিং। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের ২৩শ এর বেশি আউটলেট, ১৭৩ এর বেশি উপশাখা দিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে কোন ধরণের ঝামেলা ছাড়া টাকা পাঠানো ও উত্তোলন করা যায়। কেউ যদি দেশে থেকে বলে আমি ব্যাংকে আছি টাকা পাঠান বা পাঠাও, এই সময়ের মধ্যে তারা টাকা তুলতে পারবে। অন্যদিকে আমাদের দেশের যারা মধ্য প্রাচ্যে যাওয়ার পর তারা এমনিতেই ধর্মভীরু হয়ে যায়। ফলে তারা ইসলামী ব্যাংকের প্রতি একটু আগ্রহী হয়।

দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে রেমিটেন্স আহরণে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাধারণ ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্যাংকিং শাখায়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে এই মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ২৮৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সাধারণ ব্যাংকগুলোর ইসলামিক উইন্ডো গুলোর মাধ্যমে ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা রেমিটেন্স এসেছে যা তার আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।

গেল বছরের ডিসেম্বর শেষে ৯টি বেসরকারি কনভেনশনাল ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টি। এছাড়া ১৪টি সরকারি বেসরকারি ব্যাংকের ১৯৮টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো আছে।

এছাড়া গেল দুই বছর ধরে কনভেনশনাল ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডো বাড়ছে। এসব ব্যাংক নানাভাবে গ্রাহক আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আবার রেমিটেন্সের বিপরীতে ২ শতাংশের স্থলে অনেক ব্যাংক ৩ শতাংশও দিয়েছে।

এছাড়াও করোনার ফলে অনেক প্রবাসী নিজস্ব ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এসব কারণেই শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ এবং অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে তাঁর অভিমত।

গেল বছর ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানতের স্থিতি ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সাল শেষে অবশ্য আমানতের বৃদ্ধির হার ছিল ১৮ শতাংশ। সে হিসেবে গেল বছর আমানতের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৯ সালেও ঋণ বিতরণে একই ধরনের প্রবৃদ্ধি ছিল।

গেল বছর আমানতের ৪৭ ভাগই ছিল মেয়াদী আমানত। অন্যদিকে প্রায় ৪৪ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যখাতে। এছাড়া ২৩ শতাংশের বেশি বিতরণ করা হয়েছে শিল্পখাতের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে।
এদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে আছে ইসলামি ব্যাংকগুলো। গেল বছর লক্ষ্যমাত্রার ১০৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ ব্যাংকগুলোর মত ইসলামী ব্যাংকও কোভিডের নেতিবাচক অভিঘাত মোকবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু রাখা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

গেল বছর শেষে ইসলামী ব্যাংক ও সাধারণ ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডোগুলোতে জনবল সংখ্যা প্রায় তিন হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮,৭৮৪ জনে। বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিং তথা শরীয়া ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং সেবার এক চতুর্থাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •