অর্থ আত্মসাৎ: মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-০৭-১৮ ১৫:১৯:০৭ || আপডেট: ২০২১-০৭-১৮ ১৬:৩৬:০৪

পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মধুমতি ব্যাংকের (ভোলার) চরফ্যাশন শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৫ জুলাই সংস্থাটির উপ-পরিচালক দেবব্রত মন্ডল বরিশালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

গতকাল (রোববার) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামি দুজন হলেন, মধুমতি ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ম্যানেজার রেজাউল কবির ও বরখাস্তকৃত অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সাহাবুদ্দিন।

গত জানুয়ারিতে ভোলার চরফ্যাশনে মধুমতি ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজার মো. রেজাউল কবিরের বিরুদ্ধে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যদিও সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল তা অস্বীকার করেন।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে টাকা আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রেজাউল শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। রেজাউলকে বরখাস্তকৃত অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সাহাবুদ্দিন সহায়তা করেছেন বলে দুদকের কাছে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে মধুমতি ব্যাংকের চরফ্যাশন শাখায় ৫ টি হিসাবে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন সময়ে বিল ও চেকের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করা হত। উক্ত হিসাব পাঁচটিতে যে পরিমাণ অর্থ বিল বা চেকের মাধ্যমে জমা হওয়ার উচিত ছিল তা কখনও হয়নি। শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল কবির ওই টাকা অন্যান্য ব্যাংক থেকে নগদে কালেকশন করিয়ে এনে নিজের কাছে রাখতেন। কালেকশনকৃত অর্থ হতে হিসাব সমূহে বিলের সমপরিমাণ অর্থ জমা না করে বিভিন্ন সময়ে তিনি আংশিক অর্থ নগদে জমা করেছেন এবং বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তবে ওই হিসাব হতে অর্থ উত্তোলন করার জন্য গ্রাহক চেক উপস্থাপন করলে হিসাবের পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে ক্যাশ ইন চার্জ সাহাবুদ্দিন গ্রাহককে না জানিয়ে শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমকে অবহিত করতেন। তখন শাখা ব্যবস্থাপক সাহাবুদ্দিন এর সহযোগিতায় ওই হিসাবে নগদ অর্থ জমা করতেন এবং ক্যাশ ইন চার্জ সাহাবুদ্দিন চেকে নির্ধারিত টাকা গ্রাহককে প্রদান করতেন।

দুদকের অনুসন্ধানকালে পর্যালোচনায় দেখা যায়, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ নামীয় হিসাবের ২ টি বিলে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা জমা হওয়া উচিত ছিল কিন্তু তা হয়নি। রেজাউল কবির বিল দুটির অর্থ সোনালী ব্যাংক থেকে নগদে কালেকশন করিয়ে এনে নিজের কাছে রাখেন। এবং ওই হিসাবে বিভিন্ন তারিখে নগদে মোট ৮৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা জমা করেন। তাই এ হিসাব হতে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকা।

একইভাবে শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল কবির গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা উন্নয়ন কর্মসূচির ২টি বিলের মোট ১ কোটি ৫৯ লাথ ৩৪ হাজার ৭২১ টাকা জমা না করে বিল দুটির অর্থ সোনালী ব্যাংক থেকে নগদে কালেকশন করিয়ে নিজের কাছে রাখেন। তিনি বিভিন্ন তারিখে ওই হিসেবে মোট ৭০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯৯ টাকা জমা করেন। এ হিসাব হতে তার আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৯ লাখ ১২২ টাকা।

এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) উন্নয়ন কর্মসূচী নামীয় হিসাবে ২ টি বিলে মোট ৯১ লাখ ১৪ হাজার ৪৯০ টাকা জমা হওয়া উচিত ছিল কিন্তু। কিন্তু রেজাউল কবির ওই টাকা নিজের কাছে রেখে বিভিন্ন সময় মোট ৪২ লাখ ২১ হাজার ৩১৪ টাকা জমা করেন। তাই তার আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৬ টাকা।

একইভাবে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাজ ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন টিআর কর্মসূচির চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ টি বিলের মাধ্যমে মোট ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬ টাকা জমা হওয়া উচিত ছিল কিন্তু রেজাউল কবির উক্ত বিলগুলোর অর্থ সোনালী ব্যাংক থেকে নগদে কালেকশন করিয়ে নিজের কাছে রাখেন। তবে বিভিন্ন সময় মোট ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকা জমা করেন। তাই উক্ত হিসাব হতে রেজাউল কবিরের আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪২ টাকা।

এছাড়া চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের জমি আছে ঘর নাই গৃহ নির্মাণ প্রকল্প নামীয় হিসাবের ৩ টি চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ৪ কোটি ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও রেজাউল কবির ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নগদে কালেকশন করিয়ে ওই টাকা নিজের কাছে রাখেন। তবে তিনি ওই হিসাবে সময়ে নগদে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৭৯ হাজর ৮০০ টাকা জমা করেন। তাই এ হিসেবের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ৭১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

রেজাউল কবির ও ওই শাখার ক্যাশ ইন চার্জ সাহাবুদ্দিনের সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, চরফ্যাশন ভোলা এর যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত ৫ টি হিসাব হতে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে সর্বমোট ২কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

সানবিডি/আরএইচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •