এসপি মোক্তারের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীর ধর্ষণ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৮-১২ ১৮:৫৪:২৩


পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন তারই এক নারী সহকর্মী। ভুক্তভোগী নারী পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) ঢাকার ৭নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে এ মামলা করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে (এফএআর) গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আবেদনে ওই নারী পুলিশ পরিদর্শক জানান, ২০১৯ সালের মে মাসে আসামি পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে পুলিশের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত হন। সুদানে একই মিশনে আগে থেকে কর্মরত থাকায় মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নেয়ার নাম করে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন পুলিশ সুপার মোক্তার।

আসামি বাদীকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য বললে লজিস্টিক অফিসার হিসাবে তিনি সরল বিশ্বাসে ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একটি বাসার ব্যবস্থা করে দেন।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসামি বাদীকে জানান তিনি নিজে রান্না করে খেতে পারেন না। রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তিনি বাদীর সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করার অনুরোধ জানান।

বিদেশে নিজের দেশের একজন মানুষ, তার ওপর ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এ কারণে বাদী সহানুভূতিশীল হয়ে আসামির খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তাবে রাজী হন। এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই আসামি বাদীকে তার পারিবারিক কলহ, স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তির কথা ও বনিবনা না হওয়ার কথা বলেন। এসব কথা বলার অজুহাতে তিনি সময়ে-অসময়ে বাদীর বাসায় যাতায়াত শুরু করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে আসামি বাদীর বাসা থেকে চলে যান। এর ঘণ্টাখানেক পর আসামি ফিরে এসে বাদীর দরজায় নক করেন। পরে ওই নারী পরিদর্শকের গাড়ির চাবি নেয়ার কথা বলে ঘরে ঢোকেন। একপর্যায়ে অপ্রস্তুত অবস্থার সুযোগ নিয়ে আসামি ওই নারী পরিদর্শককে ধর্ষণ করেন।

পরে তিনি বাদীকে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে চলে যান। এর দুই দিন পরে ২২ ডিসেম্বর ক্ষমা চাওয়ার অজুহাতে বাদীর বাসায় এসে আবার ধর্ষণ করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, পরে আসামি বারবার সময়-অসময়ে বাদীর ঘরে জোর করে ‍ঢুকে যেতেন। এরপর তিনি বাদীকে মুখে মুখে কলমা পড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ের প্রলোচন দেখিয়ে ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলেও বাদীকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন আসামি। একই বছরের জুন মাসেও সুদানের খার্তুমে একটি হোটেলেও বাদীকে ধর্ষণ করা হয়। একই ভাবে ওই বছরের নভেম্বরেও ঢাকার উত্তরার একই হোটেলে কয়েকবার ধর্ষণের শিকার হন বাদী।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিকে বাদী নিকাহ রেজিস্ট্রি করার তাগিদ দিলে আসামি টালবাহানা করা শুরু করেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে রাজারবাগে আসামির বাসায় বাদী হাজির হয়ে কাবিননামা করতে বলেলে আসামি অীস্বীকৃতি জানান। এ সময় আসামির বাসায় তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদীকে মারধর করেন।

মামলার আবেদনে ওই নারী পরিদর্শক আরও উল্লেখ করেছেন, করোনা মহামারির কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মামলার আবেদনে দেরি হয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘মোক্তার হোসেনকে মাসখানেক আগে পিবিআইতে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। আমরা এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদেশ পাইনি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে মামলা হওয়ার বিষয়টি শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আমাদের তদন্তের জন্য বলা হলে, সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যেভাবে কোনো মামলার তদন্ত হয় আমরা সেভাবেই এই মামলাটি তদন্ত করব। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা পেলে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এএ