আনোয়ার গ্যালভানাইজিং: দর বৃদ্ধির তদন্তে বিএসইসির কমিটি

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২১-১০-১২ ০৭:১১:২৯ || আপডেট: ২০২১-১০-১২ ০৭:২৯:৩৫

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ জানতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিটিকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, দুই সদস্যের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন (এমআইএস) বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাতকে। কমিটির অন্য সদস্য হলেন বিএসইসির মার্কেট সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক আসমাউল হুসনা।

অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি: বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ বছরের ৪ এপ্রিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ারদর ছিল ৯৪ টাকা ৯০ পয়সা। এর পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে এবং ৩ অক্টোবর সর্বোচ্চ ৪৬৪ টাকায় দাঁড়ায়। এর পর কোম্পানিটির শেয়ারদর কিছুটা কমে সর্বশেষ গতকাল ৪৩৯ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

ব্যবসা সম্প্রসারণের খবর: এদিকে চলতি চলতি বছরের আগস্ট মাসে ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটি প্রতি বছর ২ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কোম্পানিটিকে অতিরিক্ত ২ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ১ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেসকোর কাছ থেকে অনুমোদনপত্র পেয়েছে, যা সম্প্রসারণ কাজে সহায়তা করবে।

নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্পটি কোম্পানিটির নিজস্ব সম্পদ এবং ধার করা অর্থের সংমিশ্রণ অর্থায়ন করা হবে। ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে প্রকল্পটি চালু করা হবে।

সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে কোম্পানিটি উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ৪ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন দাঁড়াবে। উৎপাদিত অতিরিক্ত পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্যগুলোকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করবে।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর

লভ্যাংশের অবস্থা: ডিএসইর সূত্র মতে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

এর আগে ৩০ জুন, ২০২০ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিলো আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৮ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ  নগদ লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

৩০ জুন, ২০১৫ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৩৫ দশমিক ৩২, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ দশমিক ৬৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে বাকি ৪৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •