নিজের জীবন বাজি রেখেই গবেষণা

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-৩০ ১১:৩৫:১০ || আপডেট: ২০১৬-০১-৩০ ১১:৩৫:১০

scientistsজলের ভিতরে গুলি চালনা করলে কী হয়? গুলিটি কী জলে ডুবে যায় নাকি প্রাণ যায়? এই প্রশ্নের জবাব পেতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছুপা হলেন না বিশিষ্ট গবেষক অ্যান্ড্রেস ওয়াহি। বন্দুক নলের সামনে তিনি নিজেকেই পরীক্ষার বস্তু করলেন এবং নিজের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

অ্যান্ড্রেস ওয়াহি মূলত নরওয়ের পদার্থবিদ্যার গবেষক ছিলেন। প্রায় সময়ই তাঁর মনে একটি প্রশ্ন উদয় হত। জলের ভিতরে গুলি চালালে কী হয়? গুলিটি কী জলে ডুবে যায়? এর জবাব পেতে নিজেকেই পরীক্ষার কাঠগড়ায় দাঁড় করান অ্যান্ড্রেস। তাঁর ধারণা ছিল, বন্দুকের গুলি জলের তুলনায় ভারি বস্তু। তাই সেটি লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছনোর আগেই জলে ডুবে যাবে। কিন্তু যদি এই ধারণা ভুল হয়, তাহলে প্রাণ যেতে পারে।

তাই অন্যের উপর এই পরীক্ষার করার ঝুঁকি নেননি অ্যান্ড্রিস। নিজের উপরই পুরো পরীক্ষা করেন। নিজের বাড়ির স্যুইমিং পুলে দড়ি বেঁধে ঝুলে পড়েন পদার্থবিদ্যার গবেষক অ্যান্ড্রিস। তাঁর মুখ জলের বাইরে থাকলেও পুরো শরীর জলের ভিতরে ছিল। তাঁর দিকে তাক করে গুলিভর্তি একটি বন্দুকও ঠিক করে রাখেন অ্যান্ড্রিস। তারপর তাঁর এক থেকে তিন গোনার পরেই বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে বেরিয়ে আসে। তবে সেই গুলি তাঁর বুক ভেদ করতে পারেনি। অ্যান্ড্রিসের বুক ছুঁয়ে জলের মধ্যে ডুবে যায়। তারপর অ্যান্ড্রিস জলে ডুব দিয়ে সেই গুলিটি তুলে আনেন এবং তাঁর ধারণা যে নির্ভুল, তা প্রমাণিত করেন।

তবে গবেষণা করার সময় তাঁর মৃত্যু হলেও গবেষণার ফলাফল যাতে সকলে জানতে পারে, তার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন অ্যান্ড্রিস। তাঁর পুরো পরীক্ষাটির ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। এছাড়া গুলিটি বেরোনোর সময় কীরকম শব্দ হয়েছিল, গুলি লাগার মুহূর্তে তাঁর কী অবস্থা হয়েছিল, তা ওই ভিডিও রেকর্ডিংয়ে বলেছেন অ্যান্ড্রিস।

তাঁর কথায়, “বাতাসের তুলনায় জলের মধ্যে হাত-পা চালানো কঠিন। কেননা বাতাসের অণুর তুলনায় জলের অনুগুলি বেশি কাছে থাকে।’’ এছাড়া জলের উপর থেকে বন্দুক চালানোর শব্দের মতই জলের ভিতরেও জোরে ‘বুম’ শব্দ হয় বলেও জানিয়েছেন নরওয়ের গবেষক অ্যান্ড্রিস।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস