ডিএসইর সিআরও লতিফকে অব্যহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৩-২২ ১০:৩৮:২৮


অবৈধ কাজের অভিযোগে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (সিআরও) থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুল লতিফকে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিএম মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়াকে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১৫ মার্চ ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে (আরএসি) সিজিএফআরসি বাদে সকল বিভাগের প্রধানদের বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথককরণ বা ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের সেকশন ২৪ অনুযায়ী এই নির্দেশনা দিয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনার পর গত ১৬ মার্চ ডিএসইর ডিজিএম হোসনে আরা পারভীনের সই করা চিঠিতে আব্দুল লতিফকে ট্রেজারি,রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ফিন্যান্স এবং একাউন্সের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এক বিভাগে ১৬ বছর!

২০০৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্ভিল্যান্সে চাকুরি জীবন শুরু করেন আব্দুল লতিফ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম হিসেবে আছেন তিনি। ডিএসইর স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর অন্যতম হলো রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে (আরএসি)। যোগদানের পর থেকেই একই জায়গায় আছেন তিনি।

২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর অসুস্থতার কারণে ডিএসইর ওই সময়ের সিআরও একেএম জিয়াউল হাসান খান পদত্যাগ করেন। এর পর কপাল খুলে আব্দুল লতিফের। এর পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত সিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। নিজের মতো করে বলয় তৈরি করে ভিতরে-বাহিরে সকল সুবিধা নিয়েছে আব্দুল লতিফ।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর

অভিযোগ!

একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে নিজের মতো কের বলয় তৈরি করে নিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ। ডিএসইর কিছু সদস্যকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে জায়গাটিকে আরও পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন ভার বাদ দিয়ে পুরোপুরি সিআরও হওয়ার। তবে সেই আশা আর পুরণ হলো না আব্দুল লতিফের।

তার বিরুদ্ধে বড় ধরণের অভিযোগ হলো তিনি প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য বাহিরে প্রচার করতেন। কোন বিনিয়োগকারী কোন শেয়ার কিনেছেন,কতদিন তা হোল্ড করছেন? তা বাহিরে প্রকাশ করতেন। এই অভিযোগটি বিএসইসির নজরে আসার পরই তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার আমলেই ডিএসইর কয়েকটি ব্রোকারেজে বড় ধরণের অনিয়ম হয়েছে। তার দূর্বল মনিটরিং ও নিজের স্বার্থ হাসিল করার কারণেই এটি হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। বানকো সিকিউরিটিজে ডিএসই তদন্ত করে কাস্টমারদের হিসেবে ২০ কোটি বেশি দেখেছিলো। পরবর্তীতে বিএসইসির নির্দেশে মাত্র এক সপ্তাহ পর আবারও তদন্ত করলে সেখানে ৬৬ কোটি টাকা নেগেটিভ পাওয়া যায়। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই। এছাড়াও ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, মডার্ন সিকিউরিটিজসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে বড় ধরণের অনিয়ে পেয়েছে ডিএসই। তবে যাদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের তদন্ত না পাঠানোন অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

সিআরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেওয়ার সময় আব্দুল লতিফ ছিলেন এজিএম। পরবর্তীতে অনেকের সাথে তিনিও ডিজিএম হয়েছেন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পদত্যাগের নাটক করেন আব্দুল লতিফ। এর ফলে নতুন ডিজিএমদের বেতন না বাড়লেও তার বেড়েছে ৩০ শতাংশ। কিছু সদস্যকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে অভিযোগ আছে।

শওকত জাহান খান পদত্যাগে লতিফের হাত!

দীর্ঘদিন রেগুলার সিআরও ছিলোনা দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালের ১৯ জুলাই ডিএসইর সিআরও হিসেবে নিয়োগ পান রূপালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. শওকত জাহান খান। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আব্দুল লতিফ। সার্ভিল্যান্সের মনিটরিং করার নামে নিয়োমিত এই বিভাবে আসা যাওয়া করতো আব্দুল লতিফ। স্পর্শকাতর জায়গা হওয়ায় সেখানে ঢুকতে বাধা দেন সিআরও শওকত জাহান খান। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ডিএসইর কয়েকজন পরিচালকের কাছে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ডিএসইর সিআরও থেকে পদত্যাগ করেন মো. শওকত জাহান খান। পরে আবারও দায়িত্ব পান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ সানবিডিকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে, সব বানোযাট ও মিথ্যা। আমি আমার সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার চেষ্ঠা করেছি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সানবিডিকে বলেন, দায়িত্বে রদবদল এটি নিয়মিত কাজ। দায়িত্বের রদবদল হলে কাজের দক্ষতা বাড়ে। সেই জন্যই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।