সন্তানের জন্য মা পাখির ভালোবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০৫-১০ ১৯:৪৩:১০ || আপডেট: ২০২২-০৫-১০ ১৯:৪৩:১০

নাজমুল আলম কাজল

ছবিতে উল্লেখিত মা ঘুঘু পাখিটি আমার অফিসের বেলকুনির বাগানে বাসা বেধেঁ একটি বাচ্চা ফুটিয়েছে। গতকাল বাগান পরিষ্কার করার সময় এটি আমাদের নজরে আসে, তখন এই বাসা অক্ষুন্ন রেখে বাগান পরিষ্কার করা হয়। আজ প্রায় সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি পড়ছে সেই বৃষ্টির মধ্যে মা পাখিটি নিজে ভিজে তার বাচ্চাকে আগলে রেখেছে। এটাই মায়ের কর্তব্যবোধ, আমরা এটাকে মায়ের ভালোবাসা বলে অসম্মান করি বা দায়িত্ব বা কর্তব্যবোধকে ছোট করে দেখি । কারণ শুধু ভালোবাসা বা মায়া বা মমতার কারণে কেউ নিজের জীবন বিপন্ন করতে পারে না এটা হয়তো আবেগী মানুষ পারে কোন প্রাণী পারে না। মানুষ এবং অন্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য হলো এই আবেগ বা বিবেক যেটা মানুষকে করেছে অনন্য এবং অন্য সকল প্রাণীকূল থেকে আলাদা। যে মানুষ এই আবেগ বা বিবেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেই প্রকৃত মানুষ, আর যে পারে না সে অমানুষ বা পশু।

আমি এটি কর্তব্য বলছি সেটার আরো কারণ আছে । মানুষ তার আদর যত্ন স্নেহ দিয়ে তার সন্তানকে বড় করার পরে  তদের মনে সেই সন্তানের কাছে কিছু প্রত্যাশা তৈরি হয়। যেমনঃ শেষ বয়সে সন্তান তাদের সেবা যত্ন করবে , তাদের সম্মান শ্রদ্ধা করবে ইত্যাদি আবার আল্লাহও ওই সন্তানের জন্য কিছু দায়িত্ব বা কর্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই সন্তান সেটা করতে বাধ্য এবং সন্তানের প্রতি মানুষের প্রত্যশা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই এখানে কেউ না চাইলেও একটি স্বার্থের বিষয় চলে আসে যেটা আমরা কেউ এড়িয়ে যেতে পারি না।

কিন্তু কোন পশু প্রাণী বা পাখিরা তাদের সন্তানদের কাছে এরমকম কোন কিছু কখনোই প্রত্যাশা করে না বা আল্লাহ তাদের সন্তানদের কোন দায়িত্ব বা কর্তব্যের বিধান দিয়ে দেননি। তাই তারা যা কিছু করে নিঃস্বার্থ ভাবেই করে এবং তাদের দায়িত্ববোধ থেকেই করে। এটাই পৃথিবীর বুকে নিখাত নিষ্কলুষ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যেটা খুব কম মানুষই দিতে পারে। আর যে মানুষ পারে সেই পরকালে কামিয়াব এবং ইহকালেও প্রশংসিত।

আমরা প্রায় দেখি পিতা -মাতারা  তাদের সন্তানদের অনেকে ক্ষেত্রে বৈষম্যের চোখে দেখে বা পারিবারিক কলহ তৈরি হয় এমন ব্যবহার করে সন্তাদের মানুষিক বা শারীরিক নির্যাতন করে। যেগুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে হত্যা বা আত্মহত্যায় রূপ নেয়। কিছু কিছু বাবা/মা অনেক পাশবিক নির্যাতন করে তাদের সন্তানদের হত্যা করছে। আমরা তখন ওই সকল বাবা-মা কে পশুর সাথে তুলনা করি , আমরা বলি তারা পশু হয়ে গিয়েছে। আসলে এটা সম্পূর্ণ ভুল উপমা কারণ কোন পশু প্রাণী তার সন্তানদের এইভাবে হত্যা করে না। পশুরা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সভ্য মমতাময়ী তাই মানুষকে পশুর সাথে তুলনা করে পশুদেরই অপমান করা হয়। তাই আমাদের উচিৎ আমাদের নফসের হেফাজত করা নিজেকে মানুষ রূপে উপস্থাপন করা।

“মা” হলো একটি বাংলা শব্দ যারা সন্তান জন্ম দেন তারাই মা । এটি দেশ এবং ভাষা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। তবে একটি জিনিস সব দেশ এবং জায়গায় একই সেটা হলো মমতা বা ভালোবাসা যেটা কখনোই পরিবর্তন হয় না। “মা” সেই যে মমতাময়ী বা কোমল ব্যবহার এবং নিঃস্বার্থ হৃদয়ের অধিকারী । “মা” কখনোই শুধু নিজ সন্তানদের জন্য “মা” নয় সে পৃথিবীর সকল সন্তানের জন্যই “মা”। কিন্তু যদি কেউ সেই “মা” হতে না পারে সেটা মানুষ হিসেবে তার ব্যর্থতা । কারণ “মা” আগে দুনিয়াতে আসে পরে আসে সন্তান, “মা” দের কাছেই সন্তানরা শিক্ষা গ্রহন করে। তাই সবাই সন্তানদের সেইভাবে শিক্ষা দান করুন যাতে সে মানুষ হয়। অমানুষ না হয়।

পরিশেষে এই মা ঘুঘু পাখিকে তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের জন্য সম্মান জানাই। আর আমরা যারা নিজেদের আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে দাবি করি তারা যেন আসলেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে চলতে পারি সেই শিক্ষা যেন আমরা অর্জণ করি সেই শিক্ষাই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেই।

সানবিডি/এনজে