রানার অটোমোবাইলসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২২-০৫-১২ ০৯:৪৮:৪৬
সরকারের ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এনবিআর বলছে প্রাথমিকভাবে ২০.৮৬ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি প্রমাণ পাওঢা গেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা দেশের প্রচলিত নিয়ম নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আমাদের সকল ব্যবসায়িক কার্য়ক্রম সরকারী নিয়ম নীতি মেনে পরিচালনা করে আসছি। আমরা আশা করি আমাদের তথ্য ও দলিলাদির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এনবিআর সূত্র বলছে,গত ৩০ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি মাসিক দাখিলপত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।’ ‘এছাড়া তাদের মূসক ফাঁকির আলামত থাকায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত কিছু বাণিজ্যিক ও মূসক সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব তথ্য ভ্যাট দলিলাদির সঙ্গে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।’
তদন্ত সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত রানার অটোমোবাইলস ১ হাজার ৮৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার ৮১৭ টাকার পণ্য বিক্রি করে। তবে তারা মাসিক রিটার্নে বিক্রি দেখিয়েছে সর্বমোট এক হাজার ৭৬৪ কোটি দুই লাখ ৩৩ হাজার ১৫৬ টাকা। অর্থাৎ রিটার্ন ও প্রকৃত বিক্রয়ে পার্থক্য রয়েছে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ টাকা।
প্রকৃত বিক্রয়ের তথ্য গোপন রাখায় ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে জানিয়ে ড. মইনুল খান বলেন, ‘এই ফাঁকির ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাসভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৩৯৫ টাকা সুদ হয়েছে। তাদের ওপর সর্বমোট ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭১ টাকা প্রযোজ্য।’
রানার অটোমোবাইলস একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এর অধীন ১টি কারখানা, ১টি বাণিজ্যিক আমদানিকারক এবং একাধিক শোরুম রয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি মোটরসাইকেল এবং থ্রি হুইলার আমদানি করে কোনরূপ পরিবর্তন না করে গ্রাহকের নিকট সরবরাহ করে থাকে। কারখানা হিসেবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি মোটরসাইকেল সিকেডি অবস্থায় আমদানি করে তা সংযোজন করে সরবরাহ করে। কারখানা হতে তিন ধরনের গ্রাহকের নিকট বিক্রয় করা হয়:(১) করর্পোরেট গ্রাহক (২) ডিলার এবং (৩) নিজস্ব শোরুরম।
তদন্তে পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটি সেবা প্রদানের বিপরীতে মূসক চালান যথাযথভাবে প্রদান করছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট মূসক সার্কেল ও বিভাগীয় অফিস হতে তদারকি জোরদার করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন
Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজ–ক্যাপিটাল ভিউজ–স্টক নিউজ–শেয়ারবাজারের খবরা-খবর






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














