৫ বছর পর আজ বাজারে আসছে রাইস ব্র্যান অয়েল ‘স্পন্দন’

:: শাহ আলম নূর || প্রকাশ: ২০২২-০৬-২৮ ০৯:৫৭:৫৪ || আপডেট: ২০২২-০৬-২৯ ১৭:৪৫:৪৭

নানা জটিলতায় প্রায় ৫ বছর বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারের খাদ্য খাতের কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেরপুরে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন শুরু করেছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি জাপানি বিনিয়োগে পরিচালিত মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্পন্দন রাইস ব্রান অয়েল বাজারজাত শুরু করতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) এ উপলক্ষে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে স্পন্দন রাইস ব্রান অয়েলের মোড়ক উম্নোচন করা হবে।

২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিনোরি বাংলাদেশ নামে জাপানি একটি কোম্পানি এমারেল্ড অয়েলের ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে এমারেল্ড অয়েলের মালিকানায় আসে।

এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মাইনোরি বাংলাদেশের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আন্তরিকতায় এ বছর আমরা উৎপাদন শুরু করেছি। এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তিতাস গ্যাস আন্তরিকতার সাথে আমাদের সমস্যাগুলি সমাধান করে দিলে দেশে চলমান ভোজ্যতেলের সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারবে এমারেল্ড অয়েল।

তিনি বলেন, এমারেল্ড অয়েলের দুটি প্রোডাকশন ইউনিট আছে। এর একটির ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করার ক্ষমতা ১৮০ টন, অপরটির ক্ষমতা ১৫০ টন। ইউনিট দুটির দৈনিক মোট উৎপাদনক্ষমতা ৩৩০ টন। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবাহের কারণে শুধু ১৮০ টনের ইউনিটটি সচল আছে। এই ইউনিটে ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করে ৩৫ মেট্রিক টনের মতো অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়। এখান থেকে দৈনিক পরিশোধিত তেল পাওয়া যায় প্রায় ২৬ মেট্রিক টন। এ সক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২৬ মেট্রিক টন তেল বাজারজাত করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন শুরুর মাত্র ৬ মাসের মধ্যে আমরা ব্রেক ইভেনে চলে আসছি। দিনের পুরো সময় গ্যাস সরবরাহ পেলে আমরা পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারব। এমন সহায়তা পেলে আশা করছি খুব শীঘ্রই শেয়ারহোল্ডারদের ভালো ডিভিডেন্ড দিতে পারবো।

তিনি বলেন, উৎপাদন শুরুর পর আমাদের দুটি বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রথমটি হলো গ্যাসের সংকট। দ্বিতীয়টি ব্যাংক লোন পুন:তফসিল। কোম্পানিটি যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিতাস গ্যাসের বকেয়া ছিল ৩২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিতাস গ্যাস লাইনচার্জসহ ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বকেয়া বিলের একটি স্টেটমেন্ট দেয়। এ টাকার পুরোটাই শোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে রেকর্ডকৃত এই কোম্পানির লাভ বা ক্ষতি যাই হোক না কেন, আমাদের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল এটিকে একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা এবং বছরের শেষে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করা।

কোম্পানি পরিবর্তন হলেও আগের ব্র্যান্ড স্পন্দন নামেই তেল বাজারজাত করা হবে।

এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ২০০৮ সালে অন্তর্ভূক্ত এবং ২০১১ সালে স্পন্দন-ব্র্যান্ডেড রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন শুরু করে।

২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।

লোকসানের এবং কোনো লভ্যাংশ না ঘোষণার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ২০১৮ সাল থেকে “জেড” ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন করা হচ্ছিল।

২০১৬ অর্থবছরে, এমারল্ড অয়েল ১৮.২ কোটি টাকা লাভ করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ৪৪ টাকা ৬০ পয়সা।

২০২২ সালের মে পর্যন্ত, মোট শেয়ারের মধ্যে, উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৩৮.৩৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৭.৮৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫৩.৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজশেয়ারবাজারের খবরা-খবর

এএ