মরুভূমিতে শুধু পিঁপড়ে খেয়েই জীবন ধারন

প্রকাশ: ২০১৫-১০-১৭ ২২:০১:৩৭ আপডেট: ২০১৫-১১-১৪ ১৭:২২:৩৪

dev-655x360
ছবি: প্রতিকী, চাদেঁর পাহাড় চলচ্চিত্রে দেব

ধু ধু মরুভূমিতে ছ’দিন শুধু পিঁপড়ে খেয়েই বাঁচলেন এক ব্যক্তি! অবাক লাগছে!!! হ্যাঁ এটাই বড় সত্যি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়াতে৷রেগ ফজার্ডি একজন শখের শিকারি। কিন্তু হঠাত্‍ ঝোঁক চেপেছিল উট দেখার৷ মানে ধরার৷ তাই বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে, এক বুধ-সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমির উদ্দেশে৷ সঙ্গী ছিল ভাই৷ প্রথমদিন উটের দেখা না মেলায় হতোদ্যম হয়ে ক্যাম্পে ফিরছিলেন তারা৷ তখনই বেহদিশ হয়ে যান ৬২ বছরের রেগ৷
একে জনমানবহীন এলাকা৷ তার উপর তাপমাত্রার বেপরোয়া ওঠানামা৷ দিনে যেমন অসহ্য গরম, রাতে তেমনই মারাত্মক ঠান্ডা৷ শুধু কি তাই? খাদ্য বা জল, কোনও কিছুরই সংস্থান নেই৷
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ জানাচ্ছে, মরুভূমিতে নিখোঁজ হওয়ার সময় রেগের পরনে ছিল টি-শার্ট আর শর্টস৷ ছিল মাথায় টুপি, পায়ে জুতো৷ ভাইয়ের দেখা না পেয়ে প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেন রেগ৷ পরে হারিয়ে গিয়েছেন বুঝতে পেরে হতোদ্যম হয়ে বসে পড়েন একটি গাছের নিচে৷ শেষবার ভাইকে সেখানেই দেখেছিলেন রেগ৷ গাছের নিচে বসে থাকার সময় অন্ন-জল ছাড়া থাকায় বার বারই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন রেগ৷ হঠাত্ই তাঁর চোখ পড়ে, তাঁকে চারপাশে জড়ো হয়েছে কালো পিঁপড়ের স্তূপ৷ খিদে-তেষ্টার জ্বালায় পাগলপ্রায় রেগ সেগুলিকেই সটান উদরে চালান করতে শুরু করেন৷ বিশেষত, শেষ দু’দিনে শুধুমাত্র এই ‘পিঁপড়ে-ডায়েট’-ই অস্তিত্বরক্ষা করেন রেগ৷ লাঞ্চ হোক বা ডিনার, দিনে-রাতে এভাবেই গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমির মুঠো মুঠো কালো পিঁপড়ে চিবিয়েই প্রাণ বাঁচিয়ে রাখেন নিরুপায় রেগ৷
ছ’দিন পর, মঙ্গলবার সকালে উদ্ধারকারী দল খুঁজে পায় রেগকে৷ গাছতলায় বসা রেগ ততক্ষণে অর্ধমৃত৷ শ্বাস চলছে ঢিমে গতিতে৷ নাড়ি দুর্বল৷ ভুল বকছেন৷ সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত চিকিৎসকরা তাঁকে তরল পথ্য ও ওষুধপত্র দেন৷ কিছুটা ধাতস্থ হলে বিমানে উড়িয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ সেখানেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন রেগ ফজার্ডি৷ তবে স্রেফ ‘মিরাকল’ না ইচ্ছাশক্তির জোরেই এই ঘটনা ঘটালেন রেগ, তা কিন্তু বিতর্কযোগ্য বিষয়৷