গুচ্ছ-গুচ্ছ খেলা চলছেই

তাপস বিশ্বাস প্রকাশ: ২০২৩-০৪-১০ ১২:১৭:৪০


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় থাকবে? নাকি নিজস্ব পদ্ধতিতেই হবে জবির ভর্তি পরীক্ষা? এমন প্রশ্ন প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় বসতে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে। কিন্তু সঠিক উত্তর যেন সবার কাছেই অজানা।

সমন্বিত গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই আগ্রহ বেশি থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ গুচ্ছের মধ্যে থাকবে নাকি তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিবে সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষনে দেখা যায়, গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে শুধু বহুনির্বাচনি প্রশ্নে পরিক্ষা হয়ে থাকে। কিন্তু গুচ্ছ পূর্ববর্তী সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে যখন পরিক্ষা নিতো তখন বহুনির্বাচনি প্রশ্নের পাশাপাশি লিখিত প্রশ্নের উত্তর করতে হতো। তাই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এই ধোঁয়াশায় পড়েছে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকা শিক্ষার্থীরা।

জীবননগর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পাশ করা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ও আমার সহপাঠীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। কিন্তু জবি গুচ্ছে থাকবে কিনা সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত করে এখনো কিছু জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গুচ্ছে জবি থাকা না-থাকার প্রভাব আমাদের প্রস্তুতির উপর পড়ছে কারণ নিজস্ব পদ্ধতিতে পরিক্ষা হলে হয়তো আমাদের হয়তো লিখিত প্রশ্নের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই আমরা চাই এই ধোঁয়াশা অচিরেই দূর হয়ে যাক।

এদিকে, ৩ এপ্রিল নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। মানববন্ধন শেষে উপাচার্যের কক্ষে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষকরা। এরপর ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ তম একাডেমিক কাউন্সিলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিসহ তিনটি ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তির বিষয়টি চুড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত স্থগিত করা হয়েছে সভাটি। ফলে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তৈরী হয়েছে ধোয়াশা।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, বন্ধের দিন হওয়ার সিন্ডিকেট সদস্যদের অনেকে আজ থাকতে পারবেন না। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবার উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আবার সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হবে।

এম জি