কে এই মাস্টার

প্রকাশ: ২০১৬-০৬-০১ ১১:০৫:৫১


Master Kaderস্বাভাবিক জীবনের আশায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে নয় সহযোগীসহ আত্মসমর্পণ করেছেন সুন্দরবনের দস্যুদল ‘মাস্টার বাহিনীর’ প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার (৪৭)। মঙ্গলবার বিকালে মংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তার আত্মসমর্পণের পর স্থানীয় জনতাসহ দেশের অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে- কে এই মাস্টার?

কীভাবে তার উত্থান? আর কেনই বা এই আত্মসমর্পণ! বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের আব্দুল লতিফ শেখের ছেলে মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার ছোটবেলা থেকেই ছিল সাহসী। কথিত আছে- স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা এলাকায় তার প্রভাব-প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার জন্য মোস্তফা শেখসহ অনেকের হাতেই অস্ত্র তুলে দেন। এতে ক্রমান্বয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা গহীন বনে আশ্রয় নেন। এখানে বনদস্যু রাজু বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মোস্তফা শেখের পরিচয় হয়।

এরপর ২০১১ সালে বনদস্যু রাজু বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। যোগ দেয়ার এক বছরের মধ্যেই ২০১২ সালে তিনি দুর্ধর্ষ ওই দস্যু বাহিনীর সেকেন্ড-ইন কমান্ডের দায়িত্ব পান। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই দলে বিভক্তি দেখা দেয়। পরে ২০১৪ সালে দলের সক্রিয় সদস্যদের ভাগিয়ে নিয়ে তিনি ‘মাস্টার বাহিনী’ নামে নতুন দস্যুবাহিনী গঠন করেন।

শুরু হয় বাহিনী প্রধান হিসেবে তার রাজত্ব। বাহিনীর অস্ত্র ও কৌশলের জোরে দীর্ঘ সময় এ বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়েছে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলের বিশাল এলাকা জুড়ে। সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালদের ত্রাস ছিল দস্যু মাস্টার বাহিনী। নৌকা ও জালের হিসাব করে নির্ধারিত হারে জেলে ও বনজীবীদের চাঁদা দিতে হতো এ মাস্টার বাহিনীকে। হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে এ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।

পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক, নন্দবালা, হারবাড়িয়া, জোংড়া, মরা পশুর, চরাপুঁটিয়া ও নীলকমল পর্যন্ত ছিল এ বাহিনীর একক রাজত্ব। ৩ বছর আগে মাস্টারের বড় ভাই কামরুল র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। বড় ভাইয়ের মৃত্যু আর প্রশাসনের অভিযানের চাপে মাস্টার বাহিনী কিছুটা ভেঙে পড়ে। ১৮/২০ জনের সমন্বয়ে গঠিত এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মানসিক তাড়না আর প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সদলবলে এক পর্যায়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন বাহিনী প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে মাস্টার।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস