দুনিয়া কাঁপানো আট ছবি আজও অবিস্মরণীয়!
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-০৮ ১৭:০০:০৫
সিরিয়া শরনার্থী! তিন বছরের শিশু আয়লান! সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা তার নিথর দেহের ছবি দেখে এখনও অনেকে কেঁদে ফেলেন৷ সিরীয় এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ভীষণ নাড়া দেয় বিশ্ববাসীকে৷ এমন বহু ছবি এখনও অনেককে নাড়া দিয়েছে৷ অতীতের এমন কিছু ছবি বিশ্লেষণ সহ তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে৷ যে মর্মস্পর্শী আটটি ছবির বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল৷নিজের কাপড় ছিঁড়ে বেঁচেছিল মেয়েটি
নাপাম বোমার আঘাতে দক্ষিণ ভিয়েতনাম তখন কেঁপে উঠেছে৷ ৯ বছরের ফান থি কিম পুক কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলে সবাই পাগলের মতো ছুটছে৷ নিজে ছুটতে শুরু করার আগেই দেখে গায়ের জামাকাপড়ে আগুন৷ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে কাজ হল না৷ বুদ্ধি করে নিজের কাপড় ছিড়ে ফেলে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াতে শুরু করল৷ (মূল ছবিটি) ৯ বছরের মেয়েটির ছবিও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল৷ এ ছবির জন্য ১৯৭৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফটোগ্রাফার নিক উট৷
কাঁটাতারে শুমান
জার্মানি তখন সবে আলাদা হয়েছে, দু’দেশের মাঝখানে গড়া শুরু হয়েছে প্রাচীর৷ পূর্ব জার্মানির সৈন্য কনরাড শুমান সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে চলে আসেন পশ্চিম জার্মানিতে৷ ১৯৬১ সালের আগস্ট মাসের এই ছবিটিও সবার হৃদয় ছুঁয়েছিল৷ শুমান নিজেও কোনদিন ভুলতে পারেননি সেই দিনটির কথা৷ ১৯৯৮ সালে আত্মহত্যা করেন তিনি৷ ৪৪ বছর আগে শুমানের এই ছবিটি তুলেছিলেন পেটার লাইবিং৷
‘ডাস্ট লেডি’
মার্সি বর্ডার৷ ধুলায় তাঁর শরীর ঢেকে যাওয়ার কারণ বিশ্বের জঘন্যতম সন্ত্রাসী হামলা৷ ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি এটি৷ টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সেখানে ছিলেন মার্সি বর্ডার৷ এই ছবির কারণে ৯/১১-র পর থেকে সবাই ‘ডাস্ট লেডি’ নামেই সবাই তাঁকে চিনত৷ ওই হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলীতে ক্যানসার হয়৷ ক্যানসারে ভুগে গত বছরের ১৫ আগস্ট ৪২ বছর বয়সে মারা যান তিনি৷
নির্ভিক এক মানুষ
১৯৮৯ সালের ৫ জুন৷ তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে দমন করতে যখন চিনা সেনাবাহিনী হামলা চালায় তখন ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন একজন৷ এইভাবে বেশ কয়েকটি ট্যাংককে কিছুক্ষণ থামিয়েও রেখেছিলেন৷ সেই মুহূর্তটিকে ক্যামেরায় ধরে রেখেছিলেন জেফ উইডেনার৷ ছবিটি তোলার পরপরই অকুতোভয় ব্যাক্তিটিকে সেখান থেকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ ২৬ বছরেও অসম সাহসী লোকটির পরিচয় আজও জানা যায়নি৷ জানা যায়নি তিনি একন কোথায়, কেমন আছেন!
প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ দিল জার্মান তরুণ
ইরানের রেজা শাহ পেহলভির রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে বার্লিনের রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছিল প্রতিবাদী মানুষ৷ শাহ বার্লিন অপেরায় বসে দিব্যি মোৎসার্টের ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ উপভোগ করছেন৷ বাইরে শুরু হয়ে গেল জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ৷ উত্তেজনা তৈরির পিছনে শাহ-র গোয়েন্দাদের উসকানির অবদান ছিল বলে অনেকে মনে করেন৷ একটা সময়ে প্রতিবাদী ছাত্র বেনো ওনেসর্গকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ৷
কেনেডির মৃত্যু সময়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার ছবিটিও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল৷ কেনেডি তখন গাড়িতে৷ হঠাৎ আততায়ীর গুলি৷ মাথায় লাগে গুলি৷ অ্যাব্রাহাম জ্যাপারডার তুলেছিলেন ছবিটি৷ আর কোনও ক্যামেরায় ধরা পড়েনি এই বিরল মুহূর্তেরও খণ্ডাংশের সেই দৃশ্য৷
অলিম্পিকে সন্ত্রাসী হামলা
১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে বসেছিল অলিম্পিকের আসর৷ অনেকের কাছে আসরটি বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ইসরায়েলের অলিম্পিক দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে৷ ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামের একটি ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ১১ জন ক্রীড়াবিদকে বন্দি করে ফেলে৷ পরে তাদের হত্যা করা হয়৷ ছবিতে এক ভবনের ব্যালকনিতে দেখা যাচ্ছে এক অপহরণকারীকে৷
আফগান মেয়ে
আফগানিস্তান তখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে৷ পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া এই আফগান কিশোরীর ছবি তখনেই তুলেছিলেন স্টিভ ম্যাককারি৷ ১৯৮৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রচ্ছদ ছবির মর্যাদা দেয় ছবিটিকে৷ শরবত গুলা নামের মেয়েটি তা জানেনইনা৷ ২০০২ সালে তাঁকে খুঁজে পায় সংবাদমাধ্যম৷ শরবত গুলা তখন জানতে পারেন তাঁর ১২ বছর বয়সের কোনও ছবির জগত বিখ্যাত হওয়ার সত্যি কাহিনি৷
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














