আদম তমিজী হককে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০১-০৩ ২০:৩১:০২


ফেসবুক ব্যাবহার করে মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক তথ্য-উপাত্ত প্রচার এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিসহ আপত্তিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আলোচিত ব্যবসায়ী আদম তমিজী হককে গত ১১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির না করায় বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর দক্ষিনখান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী এ নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশে বলা হয়, মামলার আসামী আদম তমিজী হককে গত ১১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হলেও এখন পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপন করা হয় নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তার সর্বশেষ প্রতিবেদনের সাথে আসামীর শারিরীক অবস্থার সম্পর্কিত ডাক্তারি প্রতিবেদন নেই। এমতাবস্থায় মামলার আসামী আদম তমিজী হক আদালতে উপস্থিত হওয়ার মত শারীরিকভাবে সক্ষম কিনা ৩ জানুয়ারির মধ্যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর পরিচালকে আদেশ প্রদান করা হলো।

নির্দেশে আরোও বলা হয়, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে অত্র মামলার আসামী আদম তমিজী হককে উপস্থাপনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। একই সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদেশ প্রাপ্তির পর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নিদের্শ প্রদান করা হলো। এবং আগামী ৪ জানুয়ারি বোর্ড কর্তৃক আসামী আদম তমিজী হকের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সক্ষমতা বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এবং আসামীকে আদালতে উপস্থাপনের জন্য ধার্য করা হলো।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম আদালতে দেওয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার এজাহার নামীয় আসামী আদম তমিজী হককে ১১ ডিসেম্বর দুপুর ২ টায় সংবাদের ভিত্তিতে বিকন পয়েন্ট রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসাধীন ভর্তি অবস্থায় পাইয়া গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামী অত্র মামলার ঘটনা ঘটিয়েছে মর্মে তদন্তে জানা যাইতেছে। বর্তমানে উক্ত আসামী পুলিশ পাহাড়ায় উক্ত বিকন পয়েন্ট রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে।

গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৪৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নাঈম বাদী হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আদম তমিজী হক তার ফেসবুক ব্যাবহার করে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ, মিথ্যা আক্রমনাত্মক তথ্য-উপাত্ত প্রচার করে এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিসহ বর্তমান সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের অবমাননাকর, আপত্তিজনক, মানহানিকর, উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, তার এসব বক্তব্যে জনমনে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি হয়। উক্ত আসামী তার অজ্ঞাতনামা পলাতক সহযোগীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখন্ডতা, সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিন্নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ সরকার বিরোধী ফেসবুক এ্যাক্টিভিস্ট। তাদের এরুপ কার্যকলাপ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগনের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের এসব নেতিবাচক কার্যকলাপে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। তারা বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য সুগভীর পরিকল্পনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব আপত্তিকর ভিডিও বক্তব্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। যাতে শান্তি প্রিয় জনগন সংক্ষুব্ধ হয়।

এদিকে বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদম তমিজী হক মাদকাসক্ত হওয়ায় তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র বা রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। তাকে রিহ্যাবে ভর্তি করিয়ে বিষয়টি আদালতে জানানো হয় যে, তার এলোমেলো কথাবার্তায় ডিবির মনে হয়েছে তার আরও চিকিৎসার প্রয়োজন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

আদম তমিজীর জন্য মানসিক হাসপাতালে নয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। এ বোর্ডের সামনে তাকে হাজির করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে একটা মতামত দিয়েছেন। যা আমরা আদালতে জানাবো।

এএ