তিন মামলায় বিএনপি নেতা স্বপনের জামিন নামঞ্জুর

আদালত প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০১-৩০ ১৮:৩৪:১৩


২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের ঘটনায় করা পল্টন থানার দুই ও রমনা থানার এক মামলায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপনের জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকী আল ফারাবীর আদালতে পল্টন থানার দুই মামলায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন বিচারক। তবে এ আদালতে পল্টন থানার আরও এক মামলায় জামিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলার মূল নথি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় এদিন এ মামলার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রশিদুল আলমের আদালতে রমনা থানার নাশকতার অপর এক মামলায় তার শুনানি হয়। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত। এদিন রমনা থানার আরও এক মামলায় জামিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দুটির মূল নথি না থাকায় জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। নথি থাকা সাপেক্ষে আগামীকাল পল্টন ও রমনা থানার বাকি দুই মামলার জামিন শুনানি হতে পারে।

এদিন দুপুর বারোটায় পল্টন থানার তিন মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী তাকে গ্রেফতার দেখান। এছাড়াও রমনা থানার দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিন।

সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জহির উদ্দিন স্বপনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম হিমেল।

এর আগে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ।

জামিন নামঞ্জুরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এসব মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন নিম্ন আদালত। তাই সহ-আসামি শর্তে এসব মামলায় আমরা জামিন চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আমরা জামিনের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করবো।

এদিকে নতুন এ পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আগে আরও দুইটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। সবমিলিয়ে ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মোট সাত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাকে। এর মধ্যে কোনো মামলাতেই এখন পর্যন্ত জামিন মেলেনি তার।

গত ২ নভেম্বর জহির উদ্দিন স্বপনকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষে পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়৷ এ মামলায় স্বপনকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এরপর ২৭ নভেম্বর পিস্তল ছিনতাই ও পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুরের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় আদালতে স্বপনকে হাজির করা হয়৷ এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই তাকে গ্রেফতার দেখানোসহ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল ও আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী তার জামিন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।

জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল হত্যার ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাসুক মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া মামলায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ১৬৪ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুস সালাম, নিপুণ রায়, আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এম জি