মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে ছিনতাই:

দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০৫-২৭ ১৮:২৭:৫৮


মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে সাড়ে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ মে) এ রায় দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো চার মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

আসামিদেরকে দণ্ডবিধির ৩৮৮ ধারায় চার বছর ও ৩৪২ ধারায় ছয়মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে দুইধারার সাজা একসাথে চলায় তাদেরকে চারবছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়াও আসামিদের হাজতবাসকাল সাজার মেয়াদ হতে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন এ.এস.আই মো. মনিরুল ইসলাম (৩৩), কনস্টেবেল এস এম জুলফিকার আলী (৫০) ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া মো. নুর উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে সুমন (৪২)।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মো. নিরব হাসানকে (২৬) খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই রাত ১১.৪০ মিনিটে রাজধানীর মালিবাগ মোড় এলাকায় উবার চালক খন্দকার নুরুজ্জামানের (৫৪) গাড়ি থামায় অভিযুক্ত এএসআই মনিরুল ও কনস্টেবল জুলফিকার। এ সময় তাকে তল্লাশি করার আড়ালে গাড়ীতে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে আটক করে তারা।

পরে যাবজ্জীবন সাজা হবে এমন ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২০ হাজার ৯ শত টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এসময় তাদের সহায়তা করে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া সুমন ও অন্য আসামি নিরব হাসান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে শাজাহানপুর থানার অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী সুমন ও অপর আসামি নিরব হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু সিদ্দিক চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের আসামিরা হলেন- শাহজাহানপুর থানার এ.এস.আই মো. মনিরুল ইসলাম (২৯), কনস্টেবেল এস এম জুলফিকার আলী (৪৬), মো. নুর উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে সুমন (৩৮) ও মো. নিরব হাসান (২২)।

পরের বছর ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।