এমপি আনার হত্যা
শিমুল-তানভীর-শিলাস্তির পর গ্যাস বাবুর জবানবন্দি
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০৬-১৪ ১৯:৩০:৫০
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু (৫০) সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলায় গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে চারজনই দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন। গ্রেফতার অপর আসামি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু আট দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ জুন) সাত দিনের রিমান্ড চলাকালীন বাবুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর বাবু ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গেল ৬ জুন রাতে বাবুকে আটক করে ডিবির একটি দল। পরে ৯ জুন বাবুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড চলাকালে শুক্রবার তাকে আদালতে উপস্থিত করে পুলিশ। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু (৫০) এমপি আনারকে অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি শিমুল ভূইয়া ওরফে আমানুল্যা সাইদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তার জবানবন্দিতে আসামি কাজী কামাল আহমেদ বাবুর সংশ্লিষ্টতা বর্ণিত আছে। উক্ত জবানবন্দিতে আনারকে প্রলুব্ধ করে অপহরণ ও হত্যায় আর্থিক লেনদেন বিষয়ে বাবুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। আসামি বাবুর সাথে ঘাতক শিমুল ভূইয়ার কিছু পরিকল্পনার কথাও জবানবন্দিতে প্রকাশ পায়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বাবু জানায় যে, ঘাতক শিমুল ভূইয়া গত ১৫ মে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসে ১৬ মে রাতে তার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ এবং ১৭ মে অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে ফরিদপুর জেলার ভাংগা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে শিমুল ভূইয়ার গাড়ির ভিতর সাক্ষাত করে ভিকটিমকে অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যা সংক্রান্ত ছবি, টাকা-পয়সা লেনদেন বিষয় নিয়ে গোপনে বৈঠক করে। এসময় এমপি আনারকে হত্যার পরবর্তী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিমুল ভূইয়া আসামি বাবুর কাছে দাবিকৃত টাকা চায়।
তখন আসামি বাবু দাবিকৃত টাকার আংশিক ২৩মে শিমুল ভূইয়াকে প্রদান করবে বলে আশ্বাস দেয়। এ মামলায় আসামি বাবুকে পুলিশ রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামির নাম-ঠিকানা ও পরিচয় প্রকাশ করে। আসামি বাবু এ ঘটনায় স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডি থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিন (১৩ জুন) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তার আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় গ্রেফতার অন্য তিন আসামি শিলাস্তি রহমান (২২), তানভীর ভূঁইয়া (৩০) ও শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্যা সাঈদ (৫৬) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের সবার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন। তারা এখন কারাগারে আছেন।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













