রিডিং রুম থেকে জোরপূর্বক মিছিলে নেয় ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজের সামনে পড়েছিল নিথর মরদেহ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০৭-১৭ ১৫:১৫:২৭


ঢাকা কলেজে ছাত্রাবাসের রিডিং রুমে অধ্যয়নকালে জোরপূর্বক কোটা সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে নিয়ে সবুজ আলী নামের এক ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে। পরে আবার নিহত ছাত্রকে ছাত্রলীগকর্মী বলে প্রচারের ঘটনায় রাতভর উত্তাল ছিল ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস। এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্রদের তোপের মুখে হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে। পরে হল সুপাররা গিয়ে ছাত্রদের শান্ত করেন। এসময় কলেজ প্রশাসনের সঙ্গেও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সাধারণ ছাত্ররা।

নিহত সবুজ আলী ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের অনার্সের (২০১৮-১৯) ছাত্র এবং উত্তর ছাত্রাবাসের ২০৫ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি নীলফামারি জেলায়।

ছাত্রাবাসটির ছাত্ররা জানান, সবুজ আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে সাধারণ ছাত্ররা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। রহমত নামে এ ঘটনায় জড়িত এক ছাত্রলীগ নেতাকে জোরপূর্বক হল থেকে বের করেও দেয় ছাত্ররা। গভীর রাতে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হল সুপারসহ কলেজ প্রশাসনের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় ছাত্ররা।

এ সময় শিক্ষকদের লক্ষ্য করে তারা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে সাইন্সল্যাবে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে রহমত, জসিম, বিল্লাল, ওলিসহ ছাত্রলীগ নেতারা ওই ছাত্রবাসের সব ছাত্রকে বাধ্য করে কোটা সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে নিয়ে যায়। সে সময় তারা রিডিং রুমে অধ্যয়নরত সবুজ আলীকেও জোরপূর্বক নিয়ে যায়। সাইন্সল্যাবে সাধারণ ছাত্র মনে করে ছাত্রলীগের কর্মীরাই তার ওপর হামলা করলে সবুজ গুরুতর আহত হয়, পরে ঢাকা মেডিকেলে মারা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন সাধারণ ছাত্ররা। এসময় হল সুপাররা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে এল ছাত্র তাদেরও দোষারোপ করেন। এ সময় একজন ছাত্র বলেন, ‘কলেজের ২ নম্বর গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় সবুজের সাথে দেখা হয়েছিল। তখন সে আমাকে বললো, রিডিং রুমে পড়ছিলাম। মাদা…দদের জন্য পড়তে পারলাম না। জোর করে বাইড়াইয়া বের করে নিয়ে আসছে। এ কথা বলার পর দশ মিনিটও হয় নাই ছেলেটা মারা গেছে স্যার।’ একই অভিযোগ করে অন্য ছাত্ররাও চিৎকার করে বলেন, আমাদেরও জোর করে নেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনার পর থেকে কলেজে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের হামলার আতঙ্কে ইতোমধ্যে হল ছেড়েছেন ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা।

এম জি